মঙ্গলবার রুয়ান্ডার সরকারের মুখপাত্র ইয়োলান্দে মাকোলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫০ জন পর্যন্ত নির্বাসিত ব্যক্তিকে গ্রহণ করবে। তবে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়ার আগে রুয়ান্ডা সরকার তাদের পৃথকভাবে অনুমোদন করার ক্ষমতা রাখবে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি তার কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে আরও আগ্রাসী হয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ জন ব্যক্তিকে "বিপজ্জনক অপরাধী" হিসেবে চিহ্নিত করে দক্ষিণ সুদান এবং এসওয়াতিনিতে পাঠিয়েছে। একইভাবে শত শত ভেনিজুয়েলান নাগরিককে কোস্টারিকা, পানামা এবং এল সালভাদরে নির্বাসিত করা হয়েছে। এল সালভাদরে পাঠানো অভিবাসীদের কুখ্যাত 'টেরোরিজম কনফাইনমেন্ট সেন্টার' নামক একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে নির্যাতনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
রুয়ান্ডার এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের সাথেও দেশটি একই ধরনের একটি চুক্তি করেছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়। সে সময় যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট রুয়ান্ডাকে অভিবাসীদের জন্য "নিরাপদ তৃতীয় দেশ নয়" বলে রায় দিয়েছিল এবং চুক্তিটিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, রুয়ান্ডায় প্রেসিডেন্ট পল কাগামের ২৫ বছরের শাসনামলে স্থিতিশীলতা এলেও ভিন্নমতের উপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়।
রুয়ান্ডার সরকার এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সমস্যা সমাধানে তাদের মানবিক ভূমিকার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। মুখপাত্র মাকোলো বলেন, আশ্রয়প্রাপ্তদের জীবন পুনর্গঠনের জন্য প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং বাসস্থানের সুবিধা দেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য দেখছেন। একজন রুয়ান্ডান বিশ্লেষকের মতে, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার এটি একটি কৌশল।" এই চুক্তির মাধ্যমে রুয়ান্ডা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে। দক্ষিণ সুদান বা এসওয়াতিনিতে পাঠানো নির্বাসিতদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে যখন ধোঁয়াশা রয়েছে, তখন রুয়ান্ডায় পাঠানো ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
---