শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্যামেরার সামনেই মাথায় গুলি, প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠা সেই কেনীয় হকারের দাফন সম্পন্ন

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৫, ০৪:০৭ এএম

ক্যামেরার সামনেই মাথায় গুলি, প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠা সেই কেনীয় হকারের দাফন সম্পন্ন
ফাইল ছবি

পুলিশের গুলিতে নিহত কেনীয় হকার বোনিফেস কারিউকির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই, ২০২৫) তার নিজ শহর মুরাঙ্গায় শোক ও ক্ষোভের আবহে আয়োজিত এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন হাজারো মানুষ। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই পুলিশের খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করার সেই দৃশ্য কারিউকিকে কেনিয়ার চলমান সরকারবিরোধী প্রতিবাদের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত করেছে।

 

গত ১৭ই জুন, ২০২৫ তারিখে রাজধানী নাইরোবিতে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে নৃশংসভাবে নিহত হন কারিউকি। এরপর থেকেই সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং পুলিশি বর্বরতা বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কারিউকিনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত শোকার্ত জনতা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। বেন গিতোহো নামের একজন বলেন, "পুলিশের দায়িত্ব আমাদের রক্ষা করা, অথচ তারাই আমাদের দিকে বন্দুক তাক করছে। এর মানে কী? এটা ভয়াবহ। আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না এবং সরকারকে এর দায় নিতে হবে। তাদের উচিত কারিউকির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো বিক্ষোভ দমনের অঙ্গীকার করেছেন এবং পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের পায়ে গুলি করার বিতর্কিত নির্দেশ দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

কেনিয়ার জন্য পুলিশি বর্বরতা একটি চলমান সংকট। অতীতেও বহুবার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেনিয়ার পুলিশ বাহিনীকে সংযম প্রদর্শনের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বোনিফেস কারিউকির এই মর্মান্তিক মৃত্যু কেনিয়ার সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। একজন সাধারণ হকারের এই আত্মত্যাগ দেশটিতে বিচার ও সংস্কারের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে, যা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

 

---

আফ্রিকানিউজ