তীব্র এই দাবদাহে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে থাকা মানুষেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দিনের বেলায় রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা থাকছে এবং মানুষজনকে ঘর থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতেও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে মরক্কোর বাসিন্দারা এখন এয়ার কন্ডিশনার বা এসি'র দিকে ঝুঁকছেন। ফলে দেশজুড়ে ইলেকট্রনিক্স ও অ্যাপ্লায়েন্সের দোকানগুলোতে পড়েছে এসি কেনার হিড়িক। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, অনেক দোকানেই এসি'র মজুত শেষ হয়ে গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এমন চাহিদা তারা আগে কখনও দেখেননি।
তবে স্বস্তির এই যন্ত্রটি অনেক পরিবারের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক বোঝাও বটে। একদিকে যেমন এসি'র দাম বেড়েছে, তেমনই বিদ্যুৎ বিল নিয়েও চিন্তিত সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের বর্ধিত ব্যবহার এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচের দুশ্চিন্তা থাকা সত্ত্বেও, অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে এসিকেই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে দেখছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তীব্র তাপপ্রবাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট প্রভাব। তাদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের চরম আবহাওয়া আরও বাড়বে, যা মরক্কোর মতো দেশগুলোর জন্য নতুন এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
---