শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্নীতির অভিযোগ: পুলিশ মন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৫, ০২:০৭ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্নীতির অভিযোগ: পুলিশ মন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট
ফাইল ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ মন্ত্রী সেনজো মচুন্নুকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন। একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার আনা অভিযোগের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

 

এই সংকটের সূত্রপাত হয় যখন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল নানলা মখওয়ানাজি পুলিশ মন্ত্রী সেনজো মচুন্নু এবং ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শাড্রাক সিবিয়ার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই দুজন স্পর্শকাতর তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং অপরাধী চক্রের সঙ্গে আঁতাত করেছেন। মখওয়ানাজির সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো, মচুন্নু এবং সিবিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রাইম-ফাইটিং ইউনিট ভেঙে দিয়েছেন, যেটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র ছিল।

 

প্রেসিডেন্ট রামাফোসা এক বিবৃতিতে জানান, "একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য, আমি পুলিশ মন্ত্রী মিস্টার সেনজো মচুন্নুকে অবিলম্বে ছুটি বা সাময়িক অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছি। মন্ত্রী মহোদয় তদন্ত কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।" তার স্থলে অধ্যাপক ফিরোজ কাচালিয়াকে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "এই কমিশন বর্তমান বা প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করবে, যারা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছেন, গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, অথবা কোনো অপরাধী চক্রের কার্যক্রম থেকে আর্থিক বা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন।"

 

তবে সরকারের এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নয় বিরোধী দলগুলো। তারা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, সাময়িক বরখাস্ত যথেষ্ট নয়, এটি জবাবদিহিতার নামে প্রহসন। তাদের দাবি, মচুন্নুকে অবিলম্বে স্থায়ীভাবে পদচ্যুত করা হোক। এই ঘটনাটি দক্ষিণ আফ্রিকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সততা এবং সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে এক বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এখন সবার দৃষ্টি থাকবে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের দিকে, যার ওপর দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

 

---

আফ্রিকানিউজ