প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ খার্তুমের উপর একাধিক ড্রোন উড়তে দেখা যায় এবং এর পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
সুদানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন অথরিটি) একদিন আগেই ঘোষণা করেছিল যে, সকল 'প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও পরিচালন সংক্রান্ত প্রস্তুতি' সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী বুধবার (২২ অক্টোবর) থেকে খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিষেবা পুনরায় শুরু হবে। এপ্রিল ২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী (এসএএফ) এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই বিমানবন্দরটি বন্ধ ছিল।
পরিকল্পিত এই পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি সুদানের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এর মাধ্যমে রাজধানী খার্তুমের প্রধান বিমানবন্দরটির কার্যক্রম আংশিকভাবে হলেও পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এর আগে মার্চ মাসে, সেনাবাহিনী দাবি করেছিল যে তারা খার্তুম প্রদেশ থেকে আরএসএফ-এর শেষ ঘাঁটিগুলো নির্মূল করেছে এবং বিমানবন্দরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করেছে।
কিন্তু মঙ্গলবারের এই ড্রোন হামলাটি সরকারি দাবিকৃত নিয়ন্ত্রণের পরও খার্তুমের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যে কতটা ভঙ্গুর, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। চলমান সংঘাতের ফলে দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
বিমানবন্দর হামলার এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো যখন সুদানের গৃহযুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর মধ্যে একটি তৈরি করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২০,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১৪ মিলিয়নেরও অধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যদিও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, যা প্রায় ১৩০,০০০-এর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এই সংঘাতের কারণে বহু মানুষ খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগটি দেশের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার একটি প্রতীকী প্রচেষ্টা হলেও, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের গভীরতাকেই তুলে ধরছে।