সোমবার (তারিখ: অজ্ঞাত, কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের ৩৫ মিনিট পূর্বে) সাংবিধানিক পরিষদ বর্তমান প্রেসিডেন্ট পল বিয়া-কে পুনর্নির্বাচিত ঘোষণা করার পরপরই ক্যামেরুনজুড়ে অস্থিরতা দেখা দেয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে ৯২ বছর বয়সী পল বিয়া আরও একবার দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু করছেন। তিনি ১৯৮২ সাল থেকে একটানা ক্যামেরুন শাসন করে আসছেন।
ডুয়ালা-সহ দেশের একাধিক শহরে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভে ব্যারিকেড তৈরি, অগ্নিসংযোগ এবং সরাসরি গুলি (live bullets) ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটে। সোমবার বিকেলজুড়ে লুটপাট এবং সরকারি সম্পদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের কারণে গোটা শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বিরোধী দলের প্রার্থী ইসা তচিরোমা বাকারী (Issa Tchiroma Bakary) ইতিমধ্যে এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানালেও সাধারণ জনগণের মধ্যেকার ব্যাপক হতাশা ও ক্ষোভই রাস্তায় নেমে আসা বিক্ষোভের মূল কারণ।
ডুয়ালার একজন বাসিন্দা ম্যাক্স নডংমো (Max Ndongmo) দেশের বহু নাগরিকের অনুভূতির প্রতিধ্বনি করে বলেন: "ফলাফলের খবর শুনে আমি চূর্ণ হয়ে গেছি, এটি আমাকে একেবারেই বিধ্বস্ত করেছে। সত্যি বলতে, এটি আমার জন্য এতই মর্মান্তিক ছিল যে আমি প্রায় আমার টেলিভিশন ভেঙে ফেলেছিলাম। তারা যা করছে এবং দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে, তা স্রেফ ভণ্ডামি। আমি এই সরকারকে বলতে চাই, আমি দুঃখিত, আমি খুব দুঃখিত, কিন্তু আপনাদের থামতে হবে।"
ডুয়ালাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় এবং সোমবার দিনব্যাপী লুটপাট ও জন-সম্পত্তির ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সশস্ত্র বাহিনীকে শহরের একাধিক স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং আরও সহিংসতা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যামেরুনে দীর্ঘদিনের শাসক পল বিয়ার ক্ষমতা ধরে রাখার এই প্রক্রিয়া জনগণের মধ্যে গভীর হতাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছে। এই বিক্ষোভগুলি দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।