সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত মাত্র চারটি ছোট দলের প্রতিনিধিরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই প্রার্থীরা হলেন— সাবেক মন্ত্রী উসমানে কাবা, আমাদু থিয়ের্নো দিয়ালো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী লানসানা কুয়াতে এবং বেন ইউসুফ কেইতা।
তবে এই তালিকায় উদ্বেগজনকভাবে অনুপস্থিত দেশটির তিনটি প্রধান ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল- ইউএফডিজি (UFDG), আরপিজি (RPG) এবং ইউএফআর (UFR)। এই দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বয়সসীমা সংক্রান্ত নতুন নিয়ম অথবা নির্বাসনে থাকার কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এছাড়া, দেশটির আরেকজন সুপরিচিত বিরোধী ব্যক্তিত্ব, আলিও বাহ, বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন।
এই বিতর্কিত নির্বাচনটি এমন এক জটিল রাজনৈতিক আবহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মাত্র গত সেপ্টেম্বরে একটি সাংবিধানিক গণভোটের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই নতুন সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে এবং সাবেক প্রেসিডেন্টদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য দায়মুক্তি বা আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, এই সাংবিধানিক পরিবর্তনগুলো এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার নতুন বিধানটি মূলত ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী কর্নেল ডুম্বুইয়ার প্রার্থিতার পথকেই প্রশস্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যদিও ডুম্বুইয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি, তবে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা সম্প্রতি দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে 'ধারাবাহিকতা' বজায় রাখার এবং তার নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার পক্ষে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২১ সালের সামরিক অধিগ্রহণের পর এটিই গিনির প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, যা দেশটির গণতান্ত্রিক উত্তরণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সম্পূর্ণ বর্জন করা এবং নতুন সাংবিধানিক নিয়মের ছত্রছায়ায় অন্তর্বর্তীকালীন নেতার নিজেরই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এই অবস্থান, পুরো প্রক্রিয়াটির অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।