গত বুধবারের (২৯ অক্টোবর) নির্বাচনের পর থেকেই তানজানিয়াজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বাণিজ্যিক রাজধানী দার এস সালাম এবং অন্যান্য শহরে হাজার হাজার তরুণ রাস্তায় নেমে আসে, এই নির্বাচনকে 'অবাধ ও সুষ্ঠু নয়' বলে দাবি তোলে। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি তাজা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে দমন-পীড়ন শুরু করে এবং দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয়।
এই বিতর্কিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানকে ৯৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা 'নিম্ন ভোটার উপস্থিতি'র কথা বললেও এই ভূমিধস বিজয়কে অনেকেই অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন। প্রেসিডেন্ট হাসানের এটিই প্রথম নির্বাচনী বিজয়; ২০২১ সালে পূর্বসূরির আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতায় আসেন। এবারের নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, চাডিমার তুন্ডু লিসু এবং এসিটি-ওয়াজালেন্দোর লুহাগা ম্পিনাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই দেওয়া হয়নি। লিসু বর্তমানে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কারাগারে আছেন।
বিরোধী দল চাডিমার যোগাযোগ পরিচালক ব্রেন্ডা রুপিয়া অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, "তানজানিয়ার জনগণের হৃদয় এখন রক্তাক্ত হচ্ছে।" হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, চাডিমার দাবি নিহতের সংখ্যা "এক হাজারেরও বেশি"। রুপিয়া জানান, শুধুমাত্র এমবেয়া অঞ্চলের তুন্ডুমা এলাকাতেই অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, অন্যান্য অঞ্চলেও শত শত ভুক্তভোগী রয়েছে। ক্যাথলিক চার্চও মৃতের সংখ্যা "শত শত" বলে উল্লেখ করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই হিংস্র দমনের নিন্দা জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর "অতিরিক্ত ও প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ" বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে "সরাসরি গুলি করে হত্যার" ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে।
ব্রেন্ডা রুপিয়া সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা বাহিনী "মৃতদেহ আটকে রাখছে" এবং হত্যাকাণ্ডের মাত্রা আড়াল করতে গোপনে সেগুলো ফেলে দিচ্ছে। এই অভিযোগের মধ্যেই, টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিক চালু হয়েছে। তবে সংযোগ ফিরতেই সরকার নাগরিকদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, আতঙ্ক সৃষ্টি করে বা মানুষের জীবনকে অবমাননা করে এমন ছবি বা ভিডিও শেয়ার করলে তা "রাষ্ট্রদ্রোহ" হিসেবে গণ্য হবে।
সোমবার প্রেসিডেন্ট হাসান তার অভিষেক ভাষণে "প্রাণহানির" কথা স্বীকার করলেও, নিরাপত্তা বাহিনীকে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার রাজধানী দার এস সালাম ও ডোডোমাতে জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।