শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুদানের আল-ফাশিরে নৃশংসতা, কাতারের আমিরের তীব্র নিন্দা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৪৪ এএম

সুদানের আল-ফাশিরে নৃশংসতা, কাতারের আমিরের তীব্র নিন্দা
ছবি: AP

সুদানে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পটভূমিতে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি দেশটির আল-ফাশির শহরে আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) কর্তৃক বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দোহায় দ্বিতীয় বিশ্ব সামাজিক উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

আমির তার ভাষণে বলেন, "সুদানের আল-ফাশির শহরে সংঘটিত নৃশংসতার ভয়াবহতায় আমরা সম্মিলিতভাবে মর্মাহত, আমি এর প্রতি আমাদের গভীর নিন্দা না জানিয়ে এই ভাষণ শেষ করতে পারছি না।" প্রায় ১৮ মাসের দীর্ঘ অবরোধের পর, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে আরএসএফ বাহিনী উত্তর দারফুরের রাজধানী শহরটি সুদানি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দখল করে নেয়। এই অবরোধের ফলে সেখানে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মানবিক সরবরাহের পথ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

 

সেখান থেকে পালিয়ে আসা প্রত্যক্ষদর্শী, অনলাইন ভিডিও এবং কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রে ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে। আরএসএফ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণহত্যা, যৌন সহিংসতা, মানবিক কর্মীদের ওপর হামলা, ব্যাপক লুটপাট, অপহরণ এবং অগণিত মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও আরএসএফ এসব নৃশংসতা সংঘটনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

 

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই, মঙ্গলবার জাতিসংঘের সমর্থিত একটি বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা প্রথমবারের মতো আল-ফাশির এবং দক্ষিণের শহর কাডুগলিতে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছে, যা সংকটকে আরও গভীরতর করেছে।

 

কাতারের আমির সুদানের দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত অবসানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "সুদান আড়াই বছর ধরে এই যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে বাস করছে। এখন এই যুদ্ধ থামানোর এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর সময় এসেছে, যা সুদানের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করবে।"

 

আল-ফাশিরের বাসিন্দারা এখনও অব্যাহতভাবে শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন এবং নিকটবর্তী শহরগুলোর সীমিত সম্পদে পরিচালিত জনাকীর্ণ বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলিতে আশ্রয় নিচ্ছেন। দেশটির অন্যান্য অংশে, বিশেষ করে মধ্য কর্দোফান অঞ্চলেও আরএসএফ এবং সুদানি সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্রতর হয়েছে।

 

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আরএসএফ এবং সুদানি সেনাবাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ "নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে" এবং তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে এই দুই পক্ষের মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

 

- Africa News