মোহাম্মদ উলদ আবদেল আজিজকে প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালে দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তখন তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে অবৈধ উপায়ে প্রায় ৭ কোটি (৭০ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের সম্পদ ও মূলধন আহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
তবে, শুরু থেকেই আবদেল আজিজের আইনজীবীরা এই বিচার প্রক্রিয়াকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করে আসছিলেন। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে চলতি বছরের (২০২৫) মে মাসে দেশটির আপিল আদালত সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। শুধু তাই নয়, আপিল আদালত উল্টো তার সাজা আরও ১০ বছর বাড়িয়ে মোট ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত আপিল করেছিলেন, যা আজ খারিজ হয়ে গেল।
মোহাম্মদ উলদ আবদেল আজিজের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে ২০০৮ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীকালে তিনি দুই মেয়াদে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৯ সালে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।
ক্ষমতা ছাড়ার দুই বছরের মধ্যেই, ২০২১ সালে, তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, রাষ্ট্রীয় পদের অপব্যবহার, প্রভাব খাটানো এবং অর্থ পাচারের (লন্ডারিং) মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় তিনি একা নন, আরও দশজন সুপরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে দেশটির দুজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে, মোহাম্মদ উলদ আবদেল আজিজকে এখন দীর্ঘ কারাবাস যাপন করতে হবে। দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ইতোমধ্যেই তার অর্জিত সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তিনি তার সমস্ত নাগরিক অধিকার হারিয়েছেন।