শনিবার (৮ নভেম্বর) প্রকাশ্যে আসা অসংখ্য অভিযোগপত্র থেকে এটি স্পষ্ট হয়, রাজধানী দার এস সালামের পাশাপাশি পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটির অন্যান্য শহরেও বহু মানুষ একই ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। এই গণ-অভিযোগকে রাজনৈতিক দমনপীড়নের একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ এমন বেশ কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যারা এখনো কারাবন্দী হননি। এর মধ্যে রয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল 'শাডেমা'র যোগাযোগ পরিচালক ব্রেন্ডা রুপিয়া এবং দলটির মহাসচিব জন মনিকা। এছাড়াও, জোসেফাত গোয়াজিমা নামে এক প্রভাবশালী ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গোয়াজিমা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার পর, চলতি বছরের শুরুতে তার গির্জার নিবন্ধন বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল।
'শাডেমা' তানজানিয়ার প্রধান বিরোধী দল। দলটির শীর্ষ নেতা, টুন্ডু লিসু, গত ২৯ অক্টোবরের ভোটের অনেক আগেই দেশে নির্বাচনী সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই অপরাধে তিনি বিগত কয়েক মাস ধরেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে কারাগারে বন্দী আছেন। এদিকে, তানজানিয়ার উপ-রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল এনচিম্বি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের সরকার দেশে "সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে"।
তবে, নির্বাচনের আগে ও পরে নিরাপত্তা বাহিনী যখন দাঙ্গা ও বিরোধী বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালায়, তখন ঠিক কতজন মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই সংখ্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষ এক গভীর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও, বিরোধী দল 'শাডেমা' দাবি করেছে, এই সহিংসতায় ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দলটি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গোপনে মৃতদেহ সরিয়ে ফেলে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা লুকানোর চেষ্টার মতো ভয়াবহ অভিযোগও এনেছে। তানজানিয়ার ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা সম্ভবত শত শত।
প্রতিবেশী দেশের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা 'কেনিয়া হিউম্যান রাইটস কমিশন' শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, তানজানিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৩,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ৯৭ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ২০২১ সালে তার পূর্বসূরির আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি ভাইস-প্রেসিডেন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে লিসু এবং 'এসিটি-ওয়াজালেন্দো' দলের লুহাগা এমপিনা সহ প্রধান বিরোধী প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি।
আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) এই সপ্তাহে জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নির্বাচন "গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য এইউ-এর নীতি, আদর্শিক কাঠামো এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও মানদণ্ড মেনে চলেনি।" এইউ পর্যবেক্ষকরা একাধিক ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা এবং একজন ভোটারকে একাধিক ব্যালট দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেছেন বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।