গত কয়েক মাস ধরে মালির কেন্দ্রীয় এবং উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে আল-কায়েদার সাথে সম্পৃক্ত 'জামা'আত নাসর আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন' (জেএনআইএম) নামের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি তাদের হামলা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ফলে দেশটির স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। জেএনআইএম সম্প্রতি দেশটির সামরিক সরকারের একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী বামাকোতেও অবরোধ আরোপ করেছে।
মালির সামরিক জান্তা গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অবরোধ শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অবরোধের ফলে মালির ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি বহনকারী শত শত ট্রাক রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারছে না, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাসমূহ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপারসন মাহামুদ আলি ইউসুফ এই অবরোধের ফলে সৃষ্ট "চরম অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির" তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ বেসামরিক জনগণ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে তিনি জেএনআইএম গোষ্ঠী কর্তৃক সম্প্রতি তিনজন মিশরীয় নাগরিককে অপহরণের ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান। জনাব ইউসুফ অপহৃতদের "অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি" দাবি করেন, এবং এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
মালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই নাটকীয় অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে মালি ত্যাগ করার জন্য জরুরি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আফ্রিকান ইউনিয়ন একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছে। জনাব ইউসুফ সাহেল অঞ্চলে কার্যকরভাবে "সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা" করার জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।