সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমেরিকার বয়কট ও চাপ উপেক্ষা করে দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র গৃহীত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:৫৮ পিএম

আমেরিকার বয়কট ও চাপ উপেক্ষা করে দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র গৃহীত
ছবি: AP

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতেই বিশ্বনেতারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এক নাটকীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিরোধিতা এবং নজিরবিহীন বয়কট সত্ত্বেও এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে যুক্তরাষ্ট্র এই দুদিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বর্জন করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের প্রবল চাপ উপেক্ষা করে সম্মেলনের প্রথম দিনেই এমন ঐকমত্যে পৌঁছানোকে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় এবং বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের ওপর পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করেছিল যেন আমেরিকান প্রতিনিধি দলের অনুপস্থিতিতে কোনো 'লিডার্স ডিক্লারেশন' বা নেতাদের ঘোষণাপত্র গৃহীত না হয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এই অন্যায্য চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে দৃঢ়ভাবে অস্বীকৃতি জানান।

 

সম্মেলনের আগেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তারা কোনো পরাশক্তির হুমকির মুখে ভীত হবেন না বা কারও জবরদস্তির শিকার হবেন না। সাধারণত জি-২০ সম্মেলনের একদম শেষ পর্যায়ে এসে যৌথ ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়, কিন্তু এবার প্রথা ভেঙে আলোচনার শুরুতেই তা গ্রহণ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐকমত্য গড়ার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিরই প্রতিফলন।

 

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা বলেন, এই ঘোষণাপত্র গ্রহণ বিশ্ববাসীর কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমান বিভক্ত বিশ্বেও বহুপাক্ষিকতা বা মাল্টিল্যাটারালিজম এখনো কার্যকর এবং তা সুফল বয়ে আনতে সক্ষম। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "জি-২০ নেতারা বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছেন যে, আমরা আমাদের পবিত্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব।

 

কোনো ব্যক্তি, কোনো সম্প্রদায় এবং কোনো দেশকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাব না।" যদিও রামাফোসার মুখপাত্র দাবি করেছিলেন যে ঘোষণাপত্রটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে, তবে আর্জেন্টিনা জানিয়েছে তারা এতে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়নি। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিজে এই সম্মেলনে যোগ দেননি; তার পরিবর্তে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইরনো আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

 

আফ্রিকান মহাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই জি-২০ সম্মেলনের আলোচ্যসূচি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ও সময়োপযোগী। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক বৈষম্য দূরীকরণের মতো দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এই সম্মেলন একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্জন সত্ত্বেও সম্মেলনের এই প্রাথমিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্ব এখন নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

 

- Africa News