সেখান থেকে নির্গত ছাই এবং ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ১৪ কিলোমিটার উঁচুতে উঠে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের প্রবাহে এই ছাই এখন আরব উপদ্বীপের ইয়েমেন ও ওমান অতিক্রম করে ভারত এবং উত্তর পাকিস্তানের আকাশে প্রবেশ করেছে, যার ফলে ওই অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
ভলক্যানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের এই ক্ষতিকর আস্তরণ ভারতের আকাশসীমার একটি বড় অংশ ঢেকে ফেলেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে ভারতে বিমান চলাচলে গুরুতর বিঘ্ন ঘটেছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কায় ভারতের বিভিন্ন রুটে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
অনেক ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বেশ কিছু বিমানকে নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে বা রি-রুট করে গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এয়ারলাইনগুলোকে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে এবং ছাইয়ে আচ্ছন্ন আকাশসীমা বা 'এফেক্টেড এরিয়া' সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে অগ্ন্যুৎপাতের পর ওই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে আসা বিমানগুলোর বিশেষ যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, আগ্নেয়গিরির ছাই সাধারণ ধোঁয়া নয়; এটি মূলত পাথর, খনিজ এবং কাঁচের ক্ষুদ্র ও অত্যন্ত ক্ষয়কারী কণার সমষ্টি।
এই কণাগুলো বিমানের ইঞ্জিনের ভেতরে প্রবেশ করলে তা গলে গিয়ে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে এবং উইন্ডশিল্ডে ঘষা লেগে দৃশ্যমানতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারে, যা উড্ডয়নরত বিমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের রেশ এখানেই শেষ হচ্ছে না। বাতাসের গতিবেগের কারণে ছাইয়ের এই বিশাল ও বিপজ্জনক মেঘপুঞ্জ এখন ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অর্থাৎ বাংলাদেশ এবং চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ফলে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের আকাশসীমাতেও বিমান চলাচলে অনুরূপ বিঘ্ন ঘটার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রকৃতির এই আকস্মিক রুদ্ররূপ এবং হাজার বছর পর জেগে ওঠা আগ্নেয়গিরির প্রভাব আধুনিক আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো।