তাদের মধ্য থেকে একজন সেদিনই পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় এবং বাকি ২৪ জনকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর উদ্ধার করা সম্ভব হলো। প্রেসিডেন্ট টিনুবু তাঁর বিবৃতিতে বলেন, "অপহৃত ২৪ জন ছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ায় আমি গভীর স্বস্তি বোধ করছি। এই ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবিলম্বে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে।"
তবে উদ্ধার অভিযানের সুনির্দিষ্ট কৌশল বা বিস্তারিত তথ্য নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। কেবি রাজ্যের ওই স্কুলটির অধ্যক্ষ মুসা রাবি মাগাজি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, ছাত্রীরা মুক্ত হলেও বর্তমানে তারা সরকারি হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত ডাক্তারি পরীক্ষার পরই জানা যাবে।
উদ্ধারকৃত ছাত্রীদের মধ্যে ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুই বোন রয়েছে। তাদের পিতা আব্দুলকরিম আব্দুল্লাহি টেলিফোনে নিজের আবেঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, "মেয়েদের মুক্তির খবর শুনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। গত কয়েকটা দিন আমার এবং বিশেষ করে ওদের মায়ের জন্য ছিল দুঃসহ। আমি অধীর আগ্রহে সরকারের কাছ থেকে তাদের সুস্থতার খবর শোনার এবং তাদের বুকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় আছি।"
নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে স্কুল থেকে গণহহারে অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবি রাজ্যের এই ঘটনার পাশাপাশি গত শুক্রবার উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যের সেন্ট মেরিস স্কুলে হানা দিয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মীকে অপহরণ করে বন্দুকধারীরা, যাদের মধ্যে ৫০ জন পরে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
এছাড়া কুয়ারা রাজ্যেও পৃথক হামলায় ১০ জনকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে এবং এর আগে অপহৃত ৩৮ জন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিকে গত রবিবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় গভর্নর। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র দস্যু এবং অপরাধী চক্রগুলো মুক্তিপণের আশায় স্কুল, পর্যটক ও গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালাচ্ছে।
এক দশকেরও বেশি সময় আগে চিবক স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত নাইজেরিয়ায় অন্তত ১,৫০০ শিক্ষার্থী অপহৃত হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন চলছে, তবে বাস্তবিক অর্থে এই হামলায় মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই ভুক্তভোগী হচ্ছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মূলত সম্পদের দখল ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই এই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছে।