এই প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলোকে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালানোর ও সন্দেহজনক জাহাজ পরিদর্শনের আইনি বৈধতা প্রদান করা হলো। প্রস্তাবটি পাসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩টি রাষ্ট্র পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে ভেটো ক্ষমতাধর দুই দেশ-রাশিয়া ও চীন-ভোটাভুটি থেকে বিরত ছিল।
প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি মন্তব্য করেন যে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যারা লিবিয়ায় সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। ভোটের আগে ফ্রান্সের প্রতিনিধি পরিষদের উদ্দেশে বলেন, ত্রিপোলি অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ প্রতিরোধে এবং শান্তি বজায় রাখতে এই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা ‘অপরিহার্য’।
সদ্য পাস হওয়া এই প্রস্তাবটির খসড়া যৌথভাবে তৈরি করেছে ফ্রান্স ও গ্রিস। উল্লেখ্য, এই দুটি দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অপারেশন ইরিনি’ (Operation IRINI)-এর সক্রিয় অংশীদার। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট বা এখতিয়ারভুক্ত একমাত্র মিশন হলো এই অপারেশন ইরিনি, যার প্রধান কাজ লিবিয়ার উপকূলবর্তী এলাকায় সন্দেহভাজন জাহাজগুলোতে তল্লাশি চালানো।
গ্রিসের প্রতিনিধি এই অপারেশনকে ‘নিরপেক্ষ ও অনন্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে একে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এই অভিযানের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আলজেরিয়া ও চীনসহ কয়েকটি রাষ্ট্র অপারেশন ইরিনির সমালোচনা করে বলেছে, এতে ‘স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার ঘাটতি’ রয়েছে।
ভোটাভুটির সময় চীনের প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন লিবিয়া এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতকে ‘পুরোপুরি’ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি অপারেশন ইরিনির ম্যান্ডেট বা কার্যপরিধি পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে সময়োপযোগী পরিবর্তন ও পরিমার্জন করার পরামর্শ দেন। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে লিবিয়ায় তৎকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের সময় সংঘটিত বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য অবরোধ আরোপ করেছিল।
পরবর্তীতে, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন জাহাজে তল্লাশি চালানোর অনুমোদন দেয় কাউন্সিল। এরপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে এই অনুমোদনের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে লিবিয়ায় অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ঠেকিয়ে গৃহযুদ্ধকবলিত দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।