ভারী অস্ত্রে সজ্জিত দুর্বৃত্তরা স্কুলে হানা দিয়ে শিক্ষার্থীদের অপহরণ করার চেষ্টা করলে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক প্রহরীরা দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের রক্ষা করে। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে অপহরণের ঘটনা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার ঠিক আগের সপ্তাহেই দেশটির কেব্বি রাজ্যে ২৫ জন স্কুলছাত্রী এবং নাইজার রাজ্যের সেন্ট মেরি’স ক্যাথলিক স্কুল থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।
যদিও পরবর্তীতে তাদের সকলকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ঘটতে থাকা এসব ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অপহরণের এই ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা ভয়াবহ ট্র্যাজেডি বয়ে আনছে, তার একটি করুণ চিত্র তুলে ধরেছে ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া (CAN)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নাইজার রাজ্য থেকে অপহৃত শিশুদের মধ্যে তিন সন্তানের জনক এক ব্যক্তি ঘটনার পরপরই প্রবল মানসিক আঘাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এদিকে, রাজধানী আবুজায় নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে স্কুল বন্ধ রাখার অননুমোদিত নোটিশ জারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এফসিটি মন্ত্রী এনয়েসোম উইকে। অন্যদিকে, দেশটির পার্লামেন্টেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সিনেটররা সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন যে, দেশ বর্তমানে কার্যত ‘আক্রমণের শিকার’ এবং সরকার যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে তারা জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের আইনপ্রণেতারা কেব্বি রাজ্যে অপহৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির বিনিময়ে সশস্ত্র ডাকাতদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার তীব্র সমালোচনা করেছেন, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করতে পারে বলে তারা মনে করেন।
কোগি রাজ্যের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সশস্ত্র হামলাকারীরা স্কুলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রহরীরা দ্রুত সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হামলাকারীরা কিছু সময়ের জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিম্মি করার চেষ্টা করলেও প্রহরীদের প্রবল বাধায় তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, জিম্মি হওয়া সকল শিক্ষার্থীকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ নেই।
তবে এই সাহসী উদ্ধার অভিযানের সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রহরী দলের একজন সদস্য এবং একজন স্থানীয় সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। কাব্বা বুনু স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান জাচিউস ডেয়ার মাইকেল এক বিবৃতিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলাকারীদের সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।