রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এম২৩ সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে কঙ্গো ও রুয়ান্ডা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:৪৮ পিএম

এম২৩ সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে কঙ্গো ও রুয়ান্ডা
ছবি: AP

পূর্ব কঙ্গোর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অস্থিরতার অবসান ঘটাতে অবশেষে এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পথে হাঁটছে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো এবং রুয়ান্ডা। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি এবং রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ কয়েক মাসের বিরামহীন কূটনৈতিক তৎপরতার ফলস্বরূপ এই সমঝোতা সম্ভব হতে যাচ্ছে। তবে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে রুয়ান্ডার কথিত সমর্থনের অভিযোগে দুই দেশের মধ্যে এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কঙ্গোর সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রধান শর্ত হলো রুয়ান্ডাকে অবশ্যই বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

 

প্রেসিডেন্ট শিসেকেদি নিশ্চিত করেছেন যে আগামী ৪ ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। অন্যদিকে, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে মন্তব্য করেছেন যে, এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কেবল তখনই সম্ভব, যখন সংঘাতের সাথে জড়িত সকল পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতি পূর্ণাঙ্গভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকবে। কাগামে কঙ্গো কর্তৃপক্ষের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন এবং প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ নিয়ে নিজের হতাশার কথাও ব্যক্ত করেছেন, যা শান্তি প্রক্রিয়ার পথকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।

 

পূর্ব কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সরকারি বাহিনী এবং শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষে অঞ্চলটি বিপর্যস্ত। বিশেষ করে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যাদের পেছনে রুয়ান্ডার সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তারা চলতি বছর গোমা এবং বুকাভুর মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করে নিয়েছে।

 

এই সহিংসতা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম দুর্পাকের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। প্রেসিডেন্ট শিসেকেদির একজন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন যে, আসন্ন শান্তি চুক্তিতে কোনোভাবেই এম২৩ যোদ্ধাদের কঙ্গোর জাতীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কঙ্গোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়টি আলোচনার ঊর্ধ্বে এবং এ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।

 

দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষর আন্তর্জাতিক মহলে আশার সঞ্চার করলেও, মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা এবং পারস্পরিক আস্থার সংকট নিরসনই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের এই চুক্তি কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করছে বিবদমান পক্ষগুলোর সদিচ্ছা ও বাস্তবায়নের ওপর।

 

- Africa News