সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তর মোজাম্বিকে সশস্ত্র সহিংসতায় নতুন করে এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত, জাতিসংঘের চরম উদ্বেগ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০১:৩২ পিএম

উত্তর মোজাম্বিকে সশস্ত্র সহিংসতায় নতুন করে এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত, জাতিসংঘের চরম উদ্বেগ
ছবি: AP

আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বর্বরোচিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় এক লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই পরিস্থিতিকে এক গভীর মানবিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

গ্রামগুলোতে অতর্কিত আক্রমণ, নির্বিচারে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ফলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। সহিংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা মানুষের ঢল এখন নামপুলা প্রদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সেখানে স্কুল, গির্জা এবং খোলা মাঠগুলোতে সদ্য আসা হাজার হাজার পরিবার গাদাগাদি করে আশ্রয় নিয়েছে।

 

জাতিসংঘের মতে, গত কয়েক মাসে এটি বাস্তুচ্যুত মানুষের চতুর্থ বড় ঢল। এর ফলে স্থানীয় আশ্রয়দাতা কমিউনিটিগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তাদের নিজেদের সম্পদও অত্যন্ত সীমিত। নামপুলা প্রদেশের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই, আর খাদ্যাভাব ও চিকিৎসার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

মোজাম্বিকের এই সংকটের শুরু ২০১৭ সালে, যখন দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কাবো ডেলগাডো থেকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সাথে সম্পৃক্ত যোদ্ধারা বিদ্রোহ শুরু করে। তখন থেকেই ওই অঞ্চলে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী এই সংঘাত দেশটির অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছরের শুরু থেকে এই সহিংসতা কেবল কাবো ডেলগাডোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদ্রোহীদের তৎপরতা এখন পার্শ্ববর্তী নামপুলা এবং নিয়া সা প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে আগে যেসব এলাকা নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতো এবং যেখানে বাস্তুচ্যুতরা আশ্রয় নিয়েছিল, সেখানেও এখন সহিংসতার আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।

 

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে এবং তারা প্রতিনিয়ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।  ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই বর্ধিত মানবিক চাহিদা মেটাতে এবং দুর্গতদের সহায়তা প্রদান করতে আগামী বছরের জন্য তাদের প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

 

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে তাদের তহবিলে প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৫০ শতাংশ জমা আছে। অর্থের এই তীব্র সংকটের কারণে ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে অনেকে বাধ্য হয়ে আবারও সেই অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ফিরে যাচ্ছেন।

 

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে, আশ্রয়শিবিরগুলোর পরিস্থিতি কতটা নাজুক হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহায়তা ছাড়া এই মানবিক বিপর্যয় রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

 

- Africa News