এই বিপর্যয়টি এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা— ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অর্গানাইজেশন (NOAA) এবং এর অধীনস্থ ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS)-এ ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেক্সাসের এই ঝড়ের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সময়মতো সতর্কতা জারি করেছিল, তবুও এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত কর্মী ও তহবিল ছাড়া সংস্থাগুলো কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস এমপ্লয়িজ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে সংস্থাটি প্রায় ৬০০ কর্মী হারিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন আবহাওয়াবিদ, বন্যা বিশেষজ্ঞ (হাইড্রোলজিস্ট) এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। সংগঠনের লেজিসলেটিভ ডিরেক্টর টম ফahy বলেন, "আমরা আমাদের মেধা ও মস্তিষ্কের একটি বিশাল অংশ হারিয়েছি। সামান্য কর্মী দিয়ে একটি আবহাওয়া পূর্বাভাস অফিস চালানো যায় না, যখন বহু মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।"
জলবায়ু বিজ্ঞানী অ্যান্ডি হ্যাজেলটন, যিনি নিজেও NOAA থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন, বলেন, "এই নির্দিষ্ট ঝড়ের জন্য কর্মী ছাঁটাইকে সরাসরি দায়ী করা যাবে না। কিন্তু NOAA-তে যদি ছাঁটাই অব্যাহত থাকে, পূর্বাভাসের মডেলগুলিকে দুর্বল করা হয় বা কর্মীর সংখ্যা আরও কমানো হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় আরও ঘনঘন দেখতে হতে পারে।" উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে NOAA-এর ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেট। এতে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার বাজেট কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সংস্থার প্রায় ১৭% কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, এই প্রস্তাবে জলবায়ু, আবহাওয়া এবং সমুদ্র বিষয়ক গবেষণাগারগুলির জন্য সমস্ত তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে, তখন পূর্বাভাস ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাজেট কমানো হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলবে। টেক্সাসের এই বিপর্যয় সেই অশনি সংকেতই দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র// বিবিসি