মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার কারণে যখন এই অঞ্চলে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটল।

 

তবে চরম উদ্বেগের মাঝেও কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, বিধ্বস্ত হওয়া ওই সামরিক হেলিকপ্টারের দুজন পাইলটই শেষ পর্যন্ত অক্ষত ও নিরাপদে আছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন।

 

তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে বিধ্বস্ত হওয়া ওই সামরিক হেলিকপ্টারের বৈমানিকরা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। এর আগে বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস সর্বপ্রথম তাদের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি অ্যাপাচি আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ অনির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি কোনো এক স্থানে আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পরপরই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে, যা পুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

তবে ঠিক কী কারণে এই অত্যাধুনিক সামরিক কপ্টারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হেলিকপ্টারটি ইরানের দিক থেকে ছোঁড়া কোনো গোলার আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে, নাকি এতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, অথবা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অজানা কোনো কারণে এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে-তা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই সামরিক বিষয়টির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আরও বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন বলে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা জানার জন্য সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় হোয়াইট হাউস, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ করা হয়।

 

কিন্তু তাদের কেউই তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কোনো ধরনের বক্তব্য প্রদান করেনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক প্রশাসনের এই সাময়িক নীরবতা পুরো ঘটনাটির রহস্য ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে।

 

টিআরটি ওয়ার্ল্ড