শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ৯ কেজির চেইন পরা ব্যক্তিকে টেনে নিল এমআরআই মেশিন, মৃত্যু

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৫, ০১:০৭ এএম

নিউইয়র্কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ৯ কেজির চেইন পরা ব্যক্তিকে টেনে নিল এমআরআই মেশিন, মৃত্যু
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি মেডিকেল সেন্টারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৬১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গলায় থাকা প্রায় ৯ কেজি ওজনের একটি ধাতব চেইনের কারণে শক্তিশালী এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) মেশিন তাকে সজোরে টেনে নিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে লং আইল্যান্ডের ওয়েস্টবারির নাসাউ ওপেন এমআরআই সেন্টারে। নাসাউ কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই চালু থাকা এমআরআই মেশিনের কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। গলায় ভারী ধাতব চেইন থাকায় মেশিনের শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তাকে আকস্মিকভাবে টেনে নেয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত ব্যক্তির নাম কিথ ম্যাকঅ্যালিস্টার বলে তার স্ত্রী অ্যাড্রিয়েন জোন্স-ম্যাকঅ্যালিস্টার শনাক্ত করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক হৃদয়বিদারক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হাঁটুতে এমআরআই স্ক্যান করানোর পর তার স্বামীকে তিনি সাহায্য করার জন্য ডেকেছিলেন। কিথ ব্যায়ামের জন্য ব্যবহৃত প্রায় ৯ কেজি ওজনের একটি তালাসহ চেইন গলায় পরেছিলেন। অ্যাড্রিয়েন বলেন, "তিনি কক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই মেশিনটি তাকে ঘুরিয়ে সজোরে টেনে নেয় এবং তিনি মেশিনের গায়ে গিয়ে আঘাত পান। আমি চিৎকার করে টেকনিশিয়ানকে মেশিনটি বন্ধ করতে বলছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।"

 

এমআরআই মেশিন অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের বিস্তারিত ছবি তৈরি করে। এই কারণে স্ক্যান করার আগে রোগীদের শরীর থেকে সব ধরনের ধাতব বস্তু, যেমন- গয়না, চাবি, মোবাইল ফোন ইত্যাদি খুলে ফেলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেশিনের চৌম্বক ক্ষেত্র যেকোনো আকারের ধাতব বস্তুকে তীব্র গতিতে আকর্ষণ করতে পারে, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এর আগেও এমন দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। ২০০১ সালে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে এমআরআই মেশিনের আকর্ষণে একটি অক্সিজেন ট্যাংক উড়ে গিয়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মাথায় আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। কিথ ম্যাকঅ্যালিস্টারের মৃত্যুর ঘটনাটি বর্তমানে খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ।

 

---

বিবিসি