টানা ৩৬ দিনে পড়া এই নজিরবিহীন শাটডাউন সারা দেশের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। আগের দিন সন্ধ্যায়, মঙ্গলবার, দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের পরাজয়ের শিকার হয়। যদিও এই ফলাফলগুলো ওয়াশিংটন ডিসির ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না, তবে এটি দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলের মধ্যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজ শহর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে বামপন্থী সংস্কারক জোহরান মামদানি বিপুল বিজয় অর্জন করেছেন। জোহরান মামদানি প্রায়শই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকেন। একইসাথে, নিউ জার্সি এবং ভার্জিনিয়া-এই উভয় রাজ্যেই রিপাবলিকানদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সিনেটরদের সাথে এই বিরল বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ফলাফলের জন্য চলমান অচলাবস্থাকে দায়ী করে বলেন, "আপনি যদি প্রচারপত্রগুলো দেখেন, তবে এই শাটডাউন রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় নেতিবাচক বিষয় ছিল।" প্রেসিডেন্ট আরও আক্ষেপ করে বলেন, তার দলের প্রার্থীদের খারাপ করার অন্যতম একটি কারণ হলো, "আমি নিজে ব্যালটে ছিলাম না।"
নির্বাচনী হতাশার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ নির্বাচনের ফলাফলও ট্রাম্পের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা তাদের রাজনৈতিক আধিপত্যকে আরও সুসংহত করতে নির্বাচনী মানচিত্র এমনভাবে পুনর্নির্ধারণ করেছে, যা ভবিষ্যতে দলটিকে বড় ধরনের সুবিধা দেবে।
এদিকে, বুধবারের এই অচলাবস্থা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে সৃষ্ট ৩৫ দিনের শাটডাউনের পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অচলাবস্থার জন্য শুরু থেকেই বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতাদের দায়ী করে আসছেন। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, বেশিরভাগ আমেরিকানই এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জন্য রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনকেই দায়ী করছে।
সরকার পুনরায় সচল করতে হলে সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাদের বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া না দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের মতো কিছু পূর্বশর্ত দিয়েছে।
এই শাটডাউন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবনে বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলেছে। ডাক পরিষেবা এবং এয়ার-ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মতো জরুরি সেবাগুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে অথবা কর্মীরা বেতন ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি জাদুঘর বন্ধ রয়েছে এবং জাতীয় উদ্যানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, 'স্ন্যাপ' নামক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির (যা ৪ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে) মাসিক ভাতা প্রদানের তহবিলও শেষ হয়ে গেছে।