মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিজয়, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিজয়, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার
ছবি: Reuters

নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির নাটকীয় বিজয় বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। স্ব-ঘোষিত এই 'গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী' প্রার্থীর বিজয়কে অনেকেই বিশ্বব্যাপী বামপন্থী রাজনীতির জন্য একটি নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। চৌত্রিশ বছর বয়সী মামদানি, যিনি উগান্ডায় ভারতীয় পিতামাতার কাছে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

 

মামদানির নির্বাচনী প্রচারণার মূল ভিত্তি ছিল ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং শহরের ধনী ও বৃহৎ কর্পোরেশনগুলোর ওপর কর বৃদ্ধি করা। এই প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল শহরের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও ভোটারদের মধ্যে অনুরণন সৃষ্টি করেছে। রাজ্য রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা এবং তার আগে আবাসন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং ব্যাপক তৃণমূল প্রচারণার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছান ও উল্লেখযোগ্য পরিচিতি লাভ করেন। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে মামদানি প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে একটি সুস্পষ্ট বিজয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো, যিনি ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন হারিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তিনি প্রায় ৮ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন।

 

রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কার্টিস সিলওয়া পেয়েছেন মাত্র ৭ শতাংশ ভোট। প্রচারণার সময়, কুওমোসহ বিরোধীরা মামদানিকে একজন উগ্র বামপন্থী বা এমনকি কমিউনিস্ট হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেও সফল হননি। তবে এই বিজয়ের তাৎপর্য শুধু নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ইউরোপে, রক্ষণশীল রাজনীতির উত্থানের বিপরীতে মামদানির এই সাফল্য প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের নতুন করে উৎসাহিত করেছে।

 

জার্মানির 'দ্য লেফট' পার্টি এবং ব্রিটেনের 'গ্রিনস' পার্টি এই বিজয় থেকে শক্তি সঞ্চয়ের আশা করছে। তারা মনে করছে, মধ্যপন্থী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের মূল নীতিগুলো থেকে সরে আসার প্রয়োজন নেই। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি রয়টার্সকে বলেছেন, মামদানির বিজয় প্রমাণ করে যে "আশা ঘৃণাকে পরাজিত করেছে।" তিনি আরও বলেন, "এটি কেবল নিউইয়র্কের জন্য নয়, বিশ্বজুড়েই এর প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

 

এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, অসাম্য দূর করা, বিল কমিয়ে আনা এবং কোটিপতি ও শতকোটিপতিদের ওপর কর আরোপ করার বিষয়।" তার মতে, এই নির্বাচন থেকে মূল শিক্ষা হলো, জীবনযাত্রার ব্যয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রগতিশীল দলগুলোকে এর বাস্তব সমাধান প্রস্তাব করতে হবে। একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেছেন জার্মানির 'দ্য লেফট' পার্টির প্রধান জ্যান ভ্যান আকেন।

 

তিনি উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কবাসীর সমস্যাগুলো, যেমন-অসাধ্য ভাড়ার বোঝা এবং খাদ্য ও গণপরিবহনের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি-জার্মানির মতোই। তিনি বলেন, "আমরা জোহরান মামদানি ও তার দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি এবং একে অপরের কাছ থেকে শিখছি। বার্লিনে আগামী বছরের নির্বাচনের জন্য তার এই প্রচারণা একটি নীলনকশার মতো কাজ করছে।"

 

- ABC News