উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম উন চোল দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে এক বিবৃতি প্রদান করেন। এই বিবৃতিটি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (রাজস্ব দফতর) কর্তৃক নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের দুই দিন পর এলো। মঙ্গলবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ উত্তর কোরিয়ার আটজন ব্যক্তি এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযুক্তদের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার ব্যাংকাররাও রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্রীয়ভাবে হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা গত তিন বছরে ডিজিটাল সম্পদ চুরির মাধ্যমে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই পরিমাণ অর্থ অন্য যেকোনো দেশের রাষ্ট্রীয় সাইবার চুরির ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরােষ্ট্রর ভাষ্যমতে, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ আয় সরাসরি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অর্থায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ট্রেজারি বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই অর্থ পাচারের জন্য উত্তর কোরিয়া একটি জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, যার মধ্যে চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশে অবস্থানরত ব্যাংকিং প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কাগুজে কোম্পানি জড়িত। এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে আসলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করে চলেছেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে মতানৈক্যের জেরে দুই নেতার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেস্তে যায়। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম উন চোল তার বিবৃতিতে স্পষ্ট বলেছেন, "যেহেতু বর্তমান মার্কিন প্রশাসন ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়া (উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক নাম) প্রতি শেষ পর্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ থাকার অবস্থান স্পষ্ট করেছে, আমরাও ধৈর্যের সাথে এর মোকাবিলায় যথাযথ পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
" তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চাপের কৌশল দুই দেশের মধ্যকার "বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতি" বা উত্তর কোরিয়ার "চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি" কখনোই পরিবর্তন করতে পারবে না। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের সাথে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কিম জং উন ওয়াশিংটন বা সিউলের সাথে যেকোনো ধরনের আলোচনা এড়িয়ে চলেছেন। তিনি তার বৈদেশিক নীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাশিয়াকে স্থান দিয়েছেন এবং ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধে হাজার হাজার সৈন্য ও বিপুল সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন।
একইসাথে তিনি মার্কিন-নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টে নিজের দেশের ভূমিকা সুনিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়েছেন। গত সপ্তাহে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করলেও কিম জং উন তার সাথে সাক্ষাতের প্রস্তাব উপেক্ষা করেন।