রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ‘বিপুল রাজস্ব’ দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত যুক্তি দিলেন আইনজীবী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:১৯ এএম

ট্রাম্পের ‘বিপুল রাজস্ব’ দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত যুক্তি দিলেন আইনজীবী
ছবি: BLOOMBERG

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত জরুরি শুল্কের আইনি বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই শুনানিতে প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য বক্তব্যের সাথে তার প্রশাসনের আইনজীবীর আদালতে উপস্থাপিত যুক্তির মধ্যে এক তীব্র বৈসাদৃশ্য ফুটে উঠেছে, যা প্রশাসনের আইনি কৌশলের একটি সম্ভাব্য দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তার আরোপিত শুল্ক থেকে অর্জিত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব নিয়ে প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আসছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, "এটি আমেরিকার জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি হবে!" (A BONANZA FOR AMERICA!!!)। তার বক্তব্যে শুল্ককে বরাবরই একটি অর্থনৈতিক আয়ের উৎস হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।

 

কিন্তু বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল, ডি. জন সাওয়ার, সম্পূর্ণ বিপরীত একটি অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি বিচারপতিদের সামনে যুক্তি দেন যে, এই শুল্কগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় নয়। সাওয়ার বলেন, "এগুলো নীতিগত লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার।" তিনি আরও যোগ করেন, "এগুলো থেকে যে রাজস্ব আসছে, তা কেবলই আনুষঙ্গিক।"

 

প্রশাসনের এই দ্বিমুখী অবস্থান একটি বড় ধরনের কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর কারণ নিহিত রয়েছে মার্কিন সংবিধানের ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির মধ্যে। সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের কর বা রাজস্ব আরোপের ক্ষমতা একচেটিয়াভাবে কংগ্রেসকে প্রদান করা হয়েছে, প্রেসিডেন্টকে নয়।

 

যদি আদালত মনে করেন যে এই শুল্কগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য রাজস্ব সংগ্রহ (যেমনটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে দাবি করেন), তবে তা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অতিক্রমের শামিল এবং অসাংবিধানিক বলে গণ্য হতে পারে। এই সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ এড়াতেই সলিসিটর জেনারেল সাওয়ার আদালতে শুল্কগুলোকে 'রাজস্ব' হিসেবে নয়, বরং 'নিয়ন্ত্রক' (regulatory) পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছেন।

 

প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, ১৯৭৭ সালের 'আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন' (IEEPA) প্রেসিডেন্টকে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ধরনের 'নিয়ন্ত্রক' পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য ঘাটতি এবং অন্যান্য বিষয়কে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে এই আইনের অধীনেই শুল্কগুলো আরোপ করেছিল।

 

প্রসঙ্গত, এর আগে নিম্ন আদালতগুলো এই শুল্ক আরোপকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছিল, কারণ IEEPA আইনে সুস্পষ্টভাবে 'শুল্ক' বা 'কর' আরোপের কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেলের এই যুক্তিতে বিচারপতিরাও সংশয় প্রকাশ করেন।

 

সাওয়ার যখন বলেন যে, এই শুল্কের চূড়ান্ত সাফল্য হবে যদি "কেউ এটি পরিশোধ না করে" এবং এর ফলে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাত পুনর্গঠিত হয়, তখন বিচারপতিরা এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য উদযাপনের বিপরীতে আদালতে তার আইনজীবীর এই সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী যুক্তি মামলাটিকে এক জটিল সাংবিধানিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

 

- Japan Times