প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিচার ব্যবস্থাকে নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা দেশটির ক্ষমতার পৃথকীকরণের মূল ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রায় তার হাতকে শক্তিশালী করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টদের ফৌজদারি মামলা থেকে ব্যাপক দায়মুক্তি প্রদান এবং প্রেসিডেন্টের নীতিকে দেশব্যাপী আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের ক্ষমতা হ্রাস করা। ট্রাম্প তার মেয়াদেই সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতি নিয়োগের মাধ্যমে এর গঠন বদলে দিয়েছিলেন, যার সুফল তিনি এখন পাচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে, ট্রাম্প কংগ্রেসকে এড়িয়ে একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করছেন। অভিবাসন, নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে তার এই নির্বাহী আদেশগুলো নিম্ন আদালতের বিচারকদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। যে সমস্ত বিচারক তার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন কড়া অবস্থান নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নিজে বিচারকদের "দুর্নীতিবাজ", "দানব" এবং "উন্মাদ" বলে আক্রমণ করেছেন।
এই রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হচ্ছে। মার্কিন বিচারকদের ওপর হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৩০০ জন বিচারকের বিরুদ্ধে ৪০০টিরও বেশি হুমকির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, এই সংঘাত মার্কিন গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি "চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স" বা ক্ষমতার ভারসাম্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের মতে, সরকার, কংগ্রেস এবং বিচার বিভাগ—এই তিনটি শাখার একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই লড়াইয়ের শেষ কোথায় এবং এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিসীমাকে স্থায়ীভাবে বদলে দেবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
---