সম্মেলনের সভাপতি আন্দ্রে কোরেয়া দো লা গো আলোচনার সূত্রপাত করেন ‘মুচিরাও’ (mutirão) নামক একটি ব্রাজিলিয়ান আদিবাসী ধারণার মাধ্যমে, যার অর্থ 'একটি যৌথ কাজের জন্য সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস'। এই সহযোগিতার সুর ধরে বিদায়ী কপ২৯ সভাপতি মুখতার বাবায়েভও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আর্থিক দাতাদের অবশ্যই "তাদের প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে হবে" এবং "পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি জলবায়ু প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটার কোনো অজুহাত হতে পারে না।"
ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা উদ্বোধনী ভাষণে এক কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন "লক্ষ লক্ষ মানুষকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা কয়েক দশকের অগ্রগতিকে নস্যাৎ করে দেবে।" তিনি জলবায়ু সংকট প্রশমনে আদিবাসী অঞ্চলগুলির অপরিহার্য ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের এক শক্তিশালী সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, "যারা যুদ্ধ বাধায়, তারা যদি আজ এখানে থাকতো, তারা বুঝতে পারতো যে যুদ্ধের পেছনে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করার চেয়ে জলবায়ু সংকট সমাধানে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করা অনেক সস্তা।"
ঐক্যের এই আহ্বানের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি। ট্রাম্প প্রশাসন এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় কোনো উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠায়নি এবং তারা দ্বিতীয়বারের মতো ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই পদক্ষেপ সম্মেলনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
কারণ, যখন অন্যান্য দেশগুলো কার্বন দূষণ রোধে ত্রিশ বছরের সংগ্রামের একটি মৌলিক অর্জন হিসাবে প্যারিস চুক্তিকে উদযাপন করতে বেলেমে সমবেত হয়েছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছু হটা বিশ্বব্যাপী ঐক্যের প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে জটিল করে তুলেছে।