সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড়

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:৩০ পিএম

গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড়
ছবি: El Colombia

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর প্রশাসনের শেষ সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে বিশাল বিনিয়োগ এবং সামরিক চুক্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও মোট ৩.৬৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি সামরিক চুক্তি বর্তমানে কড়া নজরদারির মুখে পড়েছে।

 

এর মধ্যে একটি হলো সুইডিশ সংস্থা সাব-এর সাথে ১৭টি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি এবং অন্যটি রাশিয়ান এমআই-১৭ হেলিকপ্টার মেরামতের ব্যর্থ উদ্যোগ। যখন দেশটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ঘাটতির (জিডিপির ৭.৫ শতাংশ) সম্মুখীন, তখন এই বিপুল ব্যয় এবং চুক্তির শর্তভঙ্গ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সুইডিশ সংস্থা 'সাব'-এর সাথে ১৭টি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান কেনার ৩.৬৫২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি নিয়ে। ইসরায়েলি কেফির যুদ্ধবিমানের পুরনো বহর প্রতিস্থাপনের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, বিমানের চড়া দাম নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। প্রতিটি বিমানের জন্য কলম্বিয়াকে প্রায় ২১৫ মিলিয়ন ডলার গুনতে হচ্ছে, যেখানে প্রাথমিক প্রস্তাব ছিল ১৫০ মিলিয়ন ডলার।

 

সমালোচকরা উদাহরণ হিসেবে থাইল্যান্ডের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা একই বিমান অনেক কম মূল্যে (ইউনিট প্রতি ১৩৭ মিলিয়ন ডলার) ক্রয় করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, থাইল্যান্ডের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছিল, কিন্তু কলম্বিয়াকে সিমুলেটর, হ্যাঙ্গার এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সবকিছু শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে।

 

এ ছাড়া, ২০৩২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী বাজেট বরাদ্দ এবং তিন বছরের 'গ্রেস পিরিয়ড' বা ঋণ পরিশোধের সময়সীমা নেওয়ার কারণেও সুদের হারে দাম বেড়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষক ও গোপন সূত্রগুলোর মতে, এই আকাশছোঁয়া দামের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইউরোপীয় প্রযুক্তির অত্যাধুনিক 'মেটিওর' মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

 

ধারণা করা হচ্ছে, সরকার আকাশপথে প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং আকাশসীমা রক্ষায় এই ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সংগ্রহ করছে, যা সাধারণত অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় না। রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতার কারণে এই অস্ত্র ক্রয়ের বিস্তারিত তথ্য কিছুটা গোপন রাখা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, রাশিয়ান এমআই-১৭ হেলিকপ্টার মেরামত সংক্রান্ত ৩২.৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি কার্যত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ান নির্মাতাদের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায়, কলম্বিয়া সরকার মার্কিন সংস্থা 'ভার্টল সিস্টেমস'-কে এই মেরামতের দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে।

 

মূল রাশিয়ান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি আগেই সতর্ক করেছিল যে, ওই মার্কিন সংস্থার এই হেলিকপ্টার মেরামতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বা বৈধ অনুমতি নেই। সেই সতর্কতা উপেক্ষা করার ফলস্বরূপ এখন কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর ২০টি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাত্র পাঁচটি সচল রয়েছে। এই অচলাবস্থা সেনা ও রসদ পরিবহনে ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে।

 

পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, জাদুঘরে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত একটি পুরনো হেলিকপ্টারকেও পুনরায় অপারেশনে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে সেনাবাহিনী। এই দুটি ঘটনা কলম্বিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

- El Colombia No