সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন নথিপত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, শান্তি আলোচনার নামে এই প্রক্রিয়াটি মূলত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে কুখ্যাত বিদ্রোহী নেতা ইভান মরডিসকোর নেতৃত্বাধীন সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ (ইএমসি) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কালারকা নিজের আলাদা দল গঠন করেন। এরপর থেকে তার বাহিনী একের পর এক নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গুয়াভিয়ারের গ্রামীণ এলাকায় সেনাবাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলায় সাতজন সেনাসদস্য নিহত হন। মে মাসে সান ভিসেন্তে দেল ক্যাগুয়ানে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে একজন সার্জেন্টকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। সর্বশেষ আগস্ট মাসে আমালফিতে পুলিশের অ্যান্টি-নারকোটিক্স ডিরেক্টরেটের ওপর মাইন হামলা চালানো হয়, যাতে একটি ব্ল্যাক হ্ক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয় এবং ১৩ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দায়ীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এতসব নৃশংসতার পরও কালারকার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত জনমনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, বোগোটায় অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা কালারকার দলের সঙ্গে ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ বা নন-এগ্রেশন প্যাক্ট করেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষ এড়ানোর নামে সামরিক কর্মকর্তারা বিদ্রোহীদের কাছে গোপন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এবং অভিযানের আগাম তথ্য পাচার করেছেন, যা তাদের গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলম্বিয়ার প্রসিকিউটর অফিস এক জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এসব অভিযোগকে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় স্বার্থান্বেষী মাফিয়া গোষ্ঠীগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। পেত্রো একে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। একইসঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিয়া মার্কেজও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি দাবি করেন, অপরাধীরা নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে তাঁর নাম ব্যবহার করছে এবং তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব অস্বীকার করা হলেও, ফাঁস হওয়া তথ্য এবং একের পর এক হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও অবিশ্বাস দানা বাঁধছে।