বরং তিনি কোনো প্রকার প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে (CIA) দায়ী করে দাবি করেছেন যে, তারা তাঁর সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে "মিথ্যা প্রতিবেদন" তৈরি করছে। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার নীরবতা ভেঙে প্রেসিডেন্ট পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পেছনে বিদেশি স্বার্থ জড়িত।
তিনি অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের তথ্যের উৎস খোদ সিআইএ, যারা জনমত প্রভাবিত করতে এবং তাঁর সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। উল্লেখ্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর পার্সোনেল কমান্ডের প্রধান জেনারেল জুয়ান মিগুয়েল হুয়ের্তাস এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিএনআই-এর কর্মকর্তা উইলমার মেজিয়ার বিরুদ্ধে কালারকা গ্রুপের সাথে গোপন যোগাযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জব্দকৃত বিভিন্ন ডিভাইস থেকে উদ্ধার করা নথিপত্র ও চ্যাটের ভিত্তিতে এই অভিযোগ করা হয়। প্রেসিডেন্ট পেত্রো স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁর পূর্ববর্তী বৈঠকগুলোতে জেনারেল হুয়ের্তাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছেন এবং সিআইএ-এর দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল না।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ইএলএন-এর বিরুদ্ধে একটি অভিযানের সময় হেলিকপ্টার বিভ্রাটের ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি অভ্যন্তরীণ তদন্তে জেনারেল হুয়ের্তাসকে নির্দোষ পেয়েছিলেন। পেত্রোর মতে, সিআইএ-এর এই প্রতিবেদনগুলো মূলত মাদক পাচারকারী চক্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও বলেন, তিনি এখনই সিআইএ-কে দেশ থেকে বহিষ্কার করছেন না, বরং তিনি ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করছেন। প্রেসিডেন্টের এমন লঘু প্রতিক্রিয়া এবং বিদেশি সংস্থার ওপর দায় চাপানোর ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যেখানে মেডেলিনের মেয়র অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত ও প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছেন, সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের এমন মন্তব্য নাগরিকদের হতাশ করেছে।
তবে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বা ফিসকালিয়া জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে উদ্ধারকৃত নথিপত্র ও ডিভাইসের তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে এবং এই কেলেঙ্কারির সত্যতা উদ্ঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করবে।