সোমবার সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর হাতে আসা একটি মেমো বা অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, এই ব্যাপক তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শরণার্থীদের গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদান কার্যক্রমও তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যুদ্ধ ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা অসহায় মানুষদের জন্য এই সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর পরিচালক জোসেফ এডলো স্বাক্ষরিত ওই মেমোতে দাবি করা হয়েছে, বাইডেন জমানায় শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক যাচাই-বাছাই বা ‘স্ক্রিনিং’-এর চেয়ে সংখ্যা ও দ্রুততাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। ফলে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের সকলকে নতুন করে সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হবে।
আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কাদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তার একটি অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি তদন্তে অযোগ্য প্রমাণিত হন, তবে তাঁর সরাসরি আপিল করার কোনো সুযোগ থাকবে না; যদিও অভিবাসন আদালতে বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেতে পারেন। এমনকি যারা ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ড পেয়ে গেছেন, তারাও এই কঠোর পর্যালোচনার বাইরে থাকবেন না।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাইডেন প্রশাসন ১ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এর মধ্যে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, আফগানিস্তান, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়ার নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও শরণার্থী কর্মসূচিতে কঠোরতা আরোপ করে এ বছর মাত্র সাড়ে সাত হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল, যা ১৯৮০ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখা লাখো মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও শরণার্থী পুনর্বাসন সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতির জন্য শরণার্থীদের এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
শরণার্থী পুনর্বাসন সংস্থা ‘হিয়াস’-এর নীতি ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাওমি স্টেইনবার্গ একে প্রশাসনের "চরম অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যারা নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন, তাদের ওপর এমন মানসিক চাপ প্রয়োগ করা দুঃখজনক। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিসট্যান্স প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট শরিফ আলি একে "সরকারি সম্পদের অপচয়" বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, যারা বছরের পর বছর ধরে শান্তিপুর্ণভাবে সমাজে বসবাস করছেন, তাদের পুনরায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কেবল নিষ্ঠুরতাই নয়, বরং অযৌক্তিক। তবে ইউএসসিআইএস-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনের যাতে কোনো অপব্যবহার না হয় এবং শরণার্থী কর্মসূচির স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।