এই ঘটনা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর ‘টোটাল পিস’ বা পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সামরিক গোয়েন্দা এজেন্টের জবানবন্দি থেকে। মেডেলিনের একটি ক্যাফেতে বসে তিনি জানান, টেলিভিশনে ‘কালার্কা’র কাছ থেকে জব্দ করা নথিপত্র সংক্রান্ত সংবাদ দেখার সময় তিনি নিজের জীবনবৃত্তান্ত সেখানে দেখতে পান।
ওই এজেন্ট বুঝতে পারেন, তাকে হত্যা করার জন্যই এই তথ্য বিদ্রোহীদের কাছে পাচার করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, এই তথ্য পাচারের মূল হোতা ছিলেন সার্জেন্ট এডগার গারজোন, যিনি অপরাধ জগতে ‘কেভিন’ নামে পরিচিত। তিনি টাকার বিনিময়ে সহকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা তথ্য, অভিযানের আগাম খবর এবং গোপন মানচিত্র বিদ্রোহীদের সরবরাহ করতেন।
প্রসিকিউটর অফিসের তদন্তে উঠে এসেছে যে, কেভিন কেবল তথ্য পাচারই করতেন না, বরং তিনি ফার্ক নেতা লেনিন কুইন্টেরো মায়ানো বা ‘পেড্রো’-র সঙ্গে মিলে গোয়েন্দা এজেন্টদের হত্যার ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত ছিলেন। ২০২৩ সালে এক অভিযানে পেড্রো নিহত হওয়ার পর তার আস্তানা থেকে ল্যাপটপ ও ইউএসবি ড্রাইভ জব্দ করা হয়, যেখানে কেভিন ও অন্যান্য দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের যোগাযোগের প্রমাণ মেলে।
এর ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কেভিনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। এই কেলেঙ্কারি আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন জানা যায়, বিদ্রোহী নেতা ‘কালার্কা’ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যুক্ত থেকেও গোপনে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। সরকারের সুরক্ষা বলয়ে থাকা সত্ত্বেও তার বাহিনী গত এপ্রিলে সাতজন সৈন্যকে হত্যা করে এবং আগস্টে পুলিশের একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করে।
ওই হেলিকপ্টারটি মাদকবিরোধী অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার কলম্বিয়াকে দিয়েছিল। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র কালার্কার খোঁজ পেতে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে, যা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে এমন গভীর অনুপ্রবেশ এবং শান্তি আলোচনার আড়ালে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কলম্বিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সংকেত। কেভিনের গ্রেফতার হয়তো এই বিশাল ষড়যন্ত্রের একটি অংশমাত্র উন্মোচন করেছে, কিন্তু এর শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।