সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ার পুরাসে আগ্নেয়গিরিতে অরেঞ্জ অ্যালার্ট, বড় অগ্ন্যুৎপাতের শঙ্কায় ন্যাশনাল ক্রাইসিস রুম চালু

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:৫৬ পিএম

কলম্বিয়ার পুরাসে আগ্নেয়গিরিতে অরেঞ্জ অ্যালার্ট, বড় অগ্ন্যুৎপাতের শঙ্কায় ন্যাশনাল ক্রাইসিস রুম চালু
ছবি: El Colombia

কলম্বিয়ার ‘লস কোকুনুকোস’ আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি পুরাসে-তে হঠাৎ করেই ভূকম্পন ও অগ্ন্যুৎপাতের লক্ষণ বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলম্বিয়ার জিওলজিক্যাল সার্ভিস বা ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটি থেকে নির্গত গ্যাস ও ছাইয়ের কুণ্ডলী ১,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

 

এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে কলম্বিয়ার দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় ইউনিট (UNGRD) জরুরি ভিত্তিতে ‘ন্যাশনাল ক্রাইসিস রুম’ বা জাতীয় সংকট মোকাবিলা কক্ষ সক্রিয় করেছে। আগ্নেয়গিরিটির বর্তমান অবস্থাকে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বা কমলা সংকেত স্তরে উন্নীত করা হয়েছে, যার অর্থ হলো এটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল আচরণ করছে এবং খুব অল্প সময়ের নোটিশে বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাত ঘটাতে পারে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সতর্কবার্তা জারির মূল কারণ হলো আগ্নেয়গিরিটির অভ্যন্তরে ক্রমাগত ভূমিকম্পের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং ছাই ও গ্যাসের উদ্গিরণ। ক্রাইসিস রুম চালুর মাধ্যমে ইউএনজিআরডি (UNGRD) স্থানীয় প্রশাসন, জরুরি সেবা সংস্থা এবং বিভাগীয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো আগ্নেয়গিরির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা, বিদ্যমান আপৎকালীন পরিকল্পনাগুলো পুনরায় যাচাই করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা।

 

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালামুখ বা ক্রেটার এলাকার কাছাকাছি যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাতাসে ভেসে আসা ছাই ও বিষাক্ত গ্যাস থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাস্ক ব্যবহার, চোখ ও ত্বক ঢেকে রাখা এবং পানির উৎসগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটির তলদেশে অগভীর স্তরে ভূকম্পন অব্যাহত রয়েছে, যা এর অস্থিতিশীলতার প্রমাণ। যদিও মাঝে মাঝে এর সক্রিয়তা কিছুটা কমতে পারে, তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে এটি সাময়িক। সিসমিস্টি বা ভূকম্পন, মাটির বিকৃতি এবং নির্গত গ্যাসের উপাদান-এই তিনটি প্রধান সূচকে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত সতর্কতার স্তর কমানো হবে না।

 

পুরাসে কলম্বিয়ার অন্যতম সক্রিয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা একটি আগ্নেয়গিরি। বর্তমানে ৯৭টি মনিটরিং স্টেশনের মাধ্যমে এর প্রতিটি কম্পন ও পরিবর্তন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ১৯৭৭ সালে এখানে সর্বশেষ বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। তবে ২০২১ সাল থেকে এর সক্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে অরেঞ্জ অ্যালার্ট বলবৎ থাকাকালে কর্তৃপক্ষ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং সরকারি নির্দেশনামুলি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

 

- El Colombia No