রবিবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের ছুটি কাটিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার পথে 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। তবে দুই নেতার মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে তিনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, "আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাই না, তবে উত্তর হলো-হ্যাঁ, আমাদের কথা হয়েছে।" কথোপকথনটি ইতিবাচক ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, "আমি বলতে পারব না এটি ভালো ছিল নাকি খারাপ।" এর আগে গত শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে এবং তাঁরা একটি সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি সেই প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণ করল।
ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ভেনেজুয়েলার প্রতি আমেরিকার কঠোর অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তিনি ভেনেজুয়েলাকে ‘বন্ধুত্বহীন’ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমরা ভেনেজুয়েলাকে খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ বলে মনে করি না। তারা লাখ লাখ মানুষকে আমাদের দেশে পাঠিয়েছে, যাদের অনেকেই জেলখানা, সন্ত্রাসী গ্যাং বা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।"
ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার যে হুমকি তিনি সম্প্রতি দিয়েছিলেন, সেটি কোনো আসন্ন বিমান হামলার ইঙ্গিত কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "এটিকে সেভাবে দেখার কোনো কারণ নেই।" এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত কয়েক মাস ধরেই লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আমেরিকা ওই অঞ্চলে মেরিন সেনা, যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট, বোমারু বিমান, সাবমেরিন এবং ড্রোন মোতায়েন করেছে। এই বিপুল সামরিক সজ্জা দেখে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই ধারণা করছেন যে, ওয়াশিংটন হয়তো ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের কোনো হামলার পরিকল্পনা করছে।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, খুব শীঘ্রই ভেনেজুয়েলার স্থলভাগের মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর থেকে সমুদ্রে ২১টি সামরিক অভিযানে অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকার আমেরিকার এই পদক্ষেপগুলোকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো অভিযোগ করেছেন, আমেরিকা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ দখল করতে চায়। এই পরিস্থিতিতে রবিবার মাদুরো আমেরিকার ‘সরাসরি আগ্রাসন’ রুখতে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা বা ওপেক প্লাসের (OPEC+) সদস্য দেশগুলোর কাছে জরুরি সহায়তা ও সংহতি কামনা করেছেন।