জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বামপন্থী জোটের প্রার্থী হিসেবে ইভান সেপেদা নিজের অবস্থান সুসংহত করছেন, যখন ডানপন্থী ও মধ্যমপন্থীরা এখনো ভোটারদের আস্থা অর্জনে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর শাসনামল নিয়ে জনমনে অসন্তোষ এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আগামী নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইভান সেপেদার উত্থান ও নির্বাচনী সমীকরণ জরিপের ফলাফল বলছে, 'হিস্টোরিক্যাল প্যাক্ট'-এর প্রার্থী ইভান সেপেদা প্রায় ৩২ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে বাম শিবিরের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ক্লডিয়া লোপেজ বা ক্যামিলো রোমেরোর মতো অন্য বামপন্থী নেতারা তার ধারেকাছেও নেই। বিশ্লেষকদের মতে, সেপেদা তার রাজনৈতিক সমর্থনের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছেন।
কাল্পনিক দ্বিতীয় দফা বা 'রান-অফ' ভোটের পরিসংখ্যানেও তিনি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। জরিপ বলছে, যদি চূড়ান্ত লড়াইয়ে ইভান সেপেদার মুখোমুখি ডানপন্থী প্রার্থী আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েল্লা হন, তবে সেপেদা ৫৯.১ শতাংশ ভোট পেয়ে সহজেই জয়ী হবেন। এমনকি মধ্যপন্থী সার্জিও ফাজার্দোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও সেপেদার জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
ডানপন্থী ও মধ্যমপন্থীদের চ্যালেঞ্জ ডানপন্থী প্রার্থী হিসেবে আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েল্লা নিজেকে তুলে ধরলেও তার কট্টর অবস্থান সাধারণ ভোটারদের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ২৪ শতাংশ মানুষ তাকে 'কখনোই ভোট দেবেন না' বলে জানিয়েছেন, যা তার বিজয়ের পথে বড় বাধা। অন্যদিকে, মধ্যপন্থী প্রার্থী সার্জিও ফাজার্দো প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে দে লা এস্প্রিয়েল্লাকে হারানোর ক্ষমতা রাখেন।
তবে রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে মধ্যপন্থী অবস্থান ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রেসিডেন্ট পেট্রোর জনপ্রিয়তা ও জননিরাপত্তা সংকট বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর জনপ্রিয়তা নিয়েও জরিপে উঠে এসেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নভেম্বরে তার কাজের প্রতি সমর্থন বা অ্যাপ্রুভাল রেটিং সামান্য বেড়ে ৩৭.৭ শতাংশে দাঁড়ালেও, অর্ধেকেরও বেশি মানুষ (৫৬.৭%) তার কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট।
সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে 'টোটাল পিস' বা পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রক্রিয়ার মুখ থুবড়ে পড়াকে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৩.৩ শতাংশই মনে করেন যে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। জননিরাপত্তা বা পাবলিক অর্ডার এখন কলম্বিয়ানদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও জনমত সরকারের বিপক্ষেই যাচ্ছে।
জরিপে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন, যা পেট্রোর বর্তমান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে গাজা সংঘাতের চেয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় প্রেসিডেন্টের কম মনোযোগ দেওয়া নিয়েও জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং কলম্বিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের এক অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।