এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে প্রেসিডেন্টের ছেলের বিরুদ্ধে ‘প্রাক-বিচার আটকাদেশ’ বা বিচার চলাকালীন কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছে। গত ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস দাবি করে যে, অভিযুক্ত নিকোলাস পেত্রো বিচারিক প্রক্রিয়া এড়ানোর জন্য দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
প্রসিকিউশন তাদের দাবির সপক্ষে নিকোলাস এবং তাঁর স্ত্রী লরা ওজেদার মধ্যকার ব্যক্তিগত কথোপকথনের রেকর্ড বা চ্যাট লগ আদালতে পেশ করে। তদন্তকারীদের মতে, ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর তারিখের একটি বার্তায় নিকোলাস তাঁর স্ত্রীকে লিখেছিলেন যে, তদন্তকারী প্রসিকিউটর তাদের শত্রুভাবাপন্ন। এমতাবস্থায় তাঁর সামনে দুটি পথ খোলা ছিল-হয় সমঝোতা করা, নয়তো দেশত্যাগ করা। ওই বার্তায় তিনি পাসপোর্ট প্রস্তুত করার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
এমনকি প্রসিকিউশন আরও দাবি করেছে যে, নিকোলাস তাঁর মা কাটিয়া বার্গোসের সঙ্গেও এই পলায়ন পরিকল্পনা ও পাসপোর্টের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে নিকোলাস পেত্রোর বিরুদ্ধে দুটি অত্যন্ত গুরুতর মামলা চলমান রয়েছে। প্রথমটি আটলান্টিকো গভর্নরের অফিসের সাথে সম্পর্কিত ‘ফুকোসো’ (FUCOSO) নামক একটি সংস্থার চুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ।
তদন্তকারীদের মতে, নিকোলাস তাঁর বাবার রাজনৈতিক প্রভাব ও কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রায় ৪o০ ও ৫৭২ মিলিয়ন সমমূল্যের দুটি চুক্তি বাগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। দ্বিতীয় মামলাটি তাঁর আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত। বিচারক গত ৭ নভেম্বর লরা ওজেদার মোবাইল ফোনটিকে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার পরই এই গোপন কথোপকথনগুলো প্রকাশ্যে আসে।
আদালত কেবল লরাই নয়, নিকোলাস এবং তাঁর সাবেক স্ত্রী ডেসুরিস ভাসকুয়েজের ফোনেও আড়িপাতার বা ওয়্যারট্যাপ করার অনুমতি দিয়েছিল। শুনানিতে প্রসিকিউটর লুসি ল্যাবর্ড আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরেন যে, অভিযুক্তের জীবনবৃত্তান্ত এবং ট্যাক্স রিটার্নেও ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিকোলাস পেত্রো শুরু থেকেই জানতেন যে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন এবং এখন বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে তিনি পলায়নপর।
প্রসিকিউটরের মতে, এই ‘পলায়নের আসন্ন ঝুঁকি’ বিবেচনা করে তাঁকে মুক্ত রাখা তদন্তের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও বিচারক এখনো তাঁকে কারাগারে পাঠানোর চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি, তবে রাষ্ট্রপক্ষের এই দালিলিক প্রমাণ নিকোলাসের আইনি সুরক্ষাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, এতসব অভিযোগের পরেও নিকোলাস পেত্রো নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। প্রেসিডেন্টের ছেলের এমন কেলেঙ্কারি কলম্বিয়ার ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।