সম্প্রতি এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের অবশ্যই হোয়াইট হাউসের শর্ত মেনে চলতে হবে। এই শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সব ধরণের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে হবে এবং তেল উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে একচেটিয়া অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই প্রতিবেদনের জেরে চীনা মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “ভেনিজুয়েলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং তাদের তেল সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর তাদের পূর্ণ ও স্থায়ী সার্বভৌমত্ব রয়েছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই বলপ্রয়োগের নীতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলেন, “ভেনিজুয়েলায় চীন ও অন্যান্য দেশের বৈধ স্বার্থ ও অধিকার রয়েছে, যা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেইজিং ও কারাকাসের মধ্যকার সহযোগিতা চুক্তিগুলো দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এবং তা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইন দ্বারা সুরক্ষিত।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পর চীনই ভেনিজুয়েলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, যার বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। এদিকে, ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দেশটির নতুন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। এর আগে গত শনিবার মার্কিন বাহিনী এক ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়।
মাদুরো অবশ্য আদালতে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানকে তাদের ‘মনরো মতবাদ’-এর অংশ হিসেবে দাবি করলেও, ভেনিজুয়েলার বিশাল তেলের রিজার্ভের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই যে তাদের মূল লক্ষ্য, তা বেইজিংয়ের এই প্রতিক্রিয়ায় এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।