গতকাল সোমবার (৭ জুলাই) হোয়াইট হাউসে এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। যদিও কাতারে অনুষ্ঠিত শেষ ধাপের আলোচনা কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল, তবুও ট্রাম্পের এই বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান এবং সকল জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা ট্রাম্পের "সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার"।
বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে স্থানান্তরের মতো বিতর্কিত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। নেতানিয়াহু বলেন, "যারা চলে যেতে চায়, তাদের সেই সুযোগ থাকা উচিত।" তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই ধরনের পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নেতানিয়াহু আরও স্পষ্ট করেন যে, পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হোক বা না হোক, গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েল "সর্বদাই" নিজেদের হাতে রাখবে। আলোচিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে হামাসের পক্ষ থেকে জিম্মিদের মুক্তি এবং তার বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি ও গাজার কিছু অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। তবে সহায়তাকারী সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করাসহ হামাসের কিছু দাবি এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর নিশ্চয়তা নিয়ে মতপার্থক্য আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, নেতানিয়াহুর এই সফরকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের বাইরে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে বহু বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে তার গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেন। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গত নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং হামাসের এক কমান্ডারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। বৈঠককালে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে জানান এবং পুরস্কার কমিটির কাছে পাঠানো মনোনয়নপত্রটি তাকে হস্তান্তর করেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর নেতানিয়াহু তৃতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউস সফর করলেন।
সূত্র// বিবিসি