কিন্তু এই অমূল্য নিদর্শনের পাশেই রয়েছে বেশ কিছু শিল্প কারখানা, যার মধ্যে একটি সার কারখানা এবং উডসাইড কোম্পানির একটি বিশাল গ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে। ইউনেস্কোর উপদেষ্টা সংস্থা ICOMOS মে মাসে সুপারিশ করে যে, এই শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত "ক্ষয়কারী অ্যাসিড নিঃসরণ" সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না করা পর্যন্ত মুরুজুাগার মনোনয়ন আটকে রাখা হোক। তাদের মতে, এই দূষণ শিলা শিল্পকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সুপারিশ মানতে নারাজ। দেশটির পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট বর্তমানে প্যারিসে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ২১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের দাবি, ICOMOS-এর রিপোর্ট "তথ্যের ভুলের" ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এবং তাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক গবেষণায় শিল্পকর্মের ওপর দূষণের কোনো চলমান ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তাদের যুক্তি, বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পেলে এই স্থানটির সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।
এই লবিং অভিযানে অস্ট্রেলিয়া থেকে একাধিক প্রতিনিধি দল প্যারিসে উপস্থিত হয়েছে, যাদের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট। একদিকে সরকারি প্রতিনিধিদল ও মুরুজুাগা অ্যাবোরিজিনাল কর্পোরেশন (MAC) চাইছে অবিলম্বে স্বীকৃতি। অন্যদিকে, 'সেভ আওয়ার সংলাইনস' নামে ঐতিহ্যবাহী মালিকদের একটি দলও সেখানে রয়েছে। তাদের দাবি, ICOMOS-এর সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের শর্তেই যেন এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সপ্তাহের শেষেই বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি মুরুজুাগার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত, এই বিশ্ব মঞ্চে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যেকার দ্বন্দ্বে কোনটি জয়ী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
সূত্র// গার্ডিয়ান