সোমবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫০,০০০ বছরের পুরোনো শিল্পকর্ম বনাম শিল্প দূষণ: বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেতে অস্ট্রেলিয়ার জোর লবিং

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই, ২০২৫, ০৩:০৭ এএম

৫০,০০০ বছরের পুরোনো শিল্পকর্ম বনাম শিল্প দূষণ: বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেতে অস্ট্রেলিয়ার জোর লবিং
ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়ার ৫০,০০০ বছরের পুরোনো শিলা শিল্পকে (Rock Art) ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়ার প্রশ্নে শিল্প দূষণের উদ্বেগ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাধা উপেক্ষা করে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মুরুজুাগা (Murujuga) নামক এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের স্বীকৃতি আদায়ে প্যারিসে চূড়ান্ত পর্যায়ের তদবির বা লবিং শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পিলবারা অঞ্চলে অবস্থিত মুরুজুাগা একটি অসাধারণ সাংস্কৃতিক ভূখণ্ড, যেখানে প্রায় ১০ থেকে ২০ লক্ষ শিলা খোদাই বা পেট্রোগ্লিফ রয়েছে। কিছু শিল্পকর্মের বয়স প্রায় ৫০,০০০ বছর, যা মানব ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল। এই শিল্পকর্মে বিলুপ্ত প্রাণী, উদ্ভিদ এবং মানুষের জীবনযাত্রার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ইউনেস্কোর উপদেষ্টা সংস্থা ICOMOS পর্যন্ত এই স্থানটিকে "মানব সৃজনশীলতার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ" এবং "বিশ্বব্যাপী তাৎপর্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক ভূখণ্ড" হিসেবে বর্ণনা করেছে।

 

কিন্তু এই অমূল্য নিদর্শনের পাশেই রয়েছে বেশ কিছু শিল্প কারখানা, যার মধ্যে একটি সার কারখানা এবং উডসাইড কোম্পানির একটি বিশাল গ্যাস প্ল্যান্ট রয়েছে। ইউনেস্কোর উপদেষ্টা সংস্থা ICOMOS মে মাসে সুপারিশ করে যে, এই শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত "ক্ষয়কারী অ্যাসিড নিঃসরণ" সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না করা পর্যন্ত মুরুজুাগার মনোনয়ন আটকে রাখা হোক। তাদের মতে, এই দূষণ শিলা শিল্পকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই সুপারিশ মানতে নারাজ। দেশটির পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াট বর্তমানে প্যারিসে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ২১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকারের দাবি, ICOMOS-এর রিপোর্ট "তথ্যের ভুলের" ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এবং তাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক গবেষণায় শিল্পকর্মের ওপর দূষণের কোনো চলমান ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তাদের যুক্তি, বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পেলে এই স্থানটির সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।

 

এই লবিং অভিযানে অস্ট্রেলিয়া থেকে একাধিক প্রতিনিধি দল প্যারিসে উপস্থিত হয়েছে, যাদের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট। একদিকে সরকারি প্রতিনিধিদল ও মুরুজুাগা অ্যাবোরিজিনাল কর্পোরেশন (MAC) চাইছে অবিলম্বে স্বীকৃতি। অন্যদিকে, 'সেভ আওয়ার সংলাইনস' নামে ঐতিহ্যবাহী মালিকদের একটি দলও সেখানে রয়েছে। তাদের দাবি, ICOMOS-এর সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের শর্তেই যেন এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সপ্তাহের শেষেই বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি মুরুজুাগার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত, এই বিশ্ব মঞ্চে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যেকার দ্বন্দ্বে কোনটি জয়ী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

 

সূত্র// গার্ডিয়ান