ইজরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আল-জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফকে (২৮) নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। গাজায় যুদ্ধের শুরু থেকে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে সংবাদ পরিবেশন করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। রবিবার গাজা সিটিতে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে চালানো হামলায় আনাস আল-শরিফসহ আল-জাজিরার আরও চারজন সাংবাদিক নিহত হন।
নিহত অন্যান্য সাংবাদিকরা হলেন করেসপন্ডেন্ট মোহাম্মদ ক্রাইকেহ এবং ক্যামেরাম্যান ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল এবং মোমেন আলিওয়া। ইজরায়েল শরিফকে 'হামাসের সন্ত্রাসী সেলের প্রধান' বলে দাবি করলেও, এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি। আল-জাজিরা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থাগুলো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আল-জাজিরার নিউজ ডিরেক্টর সালাহ নেগম জানান, আনাস আল-শরিফ প্রায় দুই বছর ধরে আল-জাজিরার হয়ে কাজ করছিলেন। যুদ্ধের শুরু থেকে তিনি গাজা সিটিতেই থেকে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি ইজরায়েলি উচ্ছেদ আদেশ মানতে অস্বীকার করেছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়ে শাম এবং এক বছর বয়সী ছেলে সালাহকে ছেড়ে তিনি নিরলসভাবে গাজার মানুষের দুর্দশার খবর তুলে ধরছিলেন।
আনাস আল-শরিফের বাবাও ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন। নিজের মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি গাজায় ইজরায়েলের তীব্র বোমা হামলা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) এই হত্যাকাণ্ডকে 'ভিত্তিহীন' বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। আল-জাজিরার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইজরায়েলি সেনাবাহিনী সাংবাদিকদের হত্যা করার আগে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে, যাতে তাদের অপরাধ ঢাকা পড়ে।
আনাস আল-শরিফ তার মৃত্যুর আগে লিখেছিলেন, “যদি এই কথাগুলো আপনাদের কাছে পৌঁছায়, তবে জানবেন যে ইজরায়েল আমাকে হত্যা করে আমার কণ্ঠস্বরকে নীরব করতে সফল হয়েছে... গাজাকে ভুলে যাবেন না।”