গতকাল রবিবার গ্রিনস পার্টির বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিরা এক ভোটাভুটির মাধ্যমে হুটনের আজীবন সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত করে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হুটন এমন একটি বিতর্ককে উৎসাহিত করেছেন যা ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর। কুইন্সল্যান্ড গ্রিনসের আহ্বায়ক জেমিয়া বার্ডেন এক বিবৃতিতে বলেন, "ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার মানবাধিকার এবং এটি নিয়ে কোনো ধরনের আপস চলবে না। কারো লিঙ্গ, বর্ণ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে ঘৃণা বা সহিংসতার শিকার হতে দেওয়া যায় না।"
অন্যদিকে, ড্রিউ হুটন এক বিবৃতিতে বলেন, "যে আদর্শ নিয়ে আমি দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, তারা সেই পথ হারিয়েছে। তারা এখন একটি পরিবেশবান্ধব বিশ্ব গড়ার ঐতিহাসিক লক্ষ্য থেকে সরে গেছে।" এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০২২ সালের জুন মাসে, যখন হুটন ফেসবুকে কয়েকটি পোস্ট করেন। ট্রান্সফোবিক মন্তব্যের অভিযোগে দলের কয়েকজন সদস্যকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি দলের এই পদক্ষেপকে "কর্তৃত্ববাদী ও অগণতান্ত্রিক" বলে আখ্যা দেন। তার এই পোস্টে অনেকেই ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর জেরে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দল হুটনের সদস্যপদ স্থগিত করে এবং তাকে পোস্ট ও অন্যদের করা অবমাননাকর মন্তব্যগুলো মুছে ফেলতে বলে।
কিন্তু হুটন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে মন্তব্যগুলো মুছতে অস্বীকার করেন, যা নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে অচলাবস্থা চলে। অবশেষে, তার সদস্যপদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। দলটির মতে, কোনো সদস্যই, এমনকি একজন প্রতিষ্ঠাতাও, দলের নিয়মের ঊর্ধ্বে নন এবং সকল সদস্যকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করতে হবে। তবে হুটন মনে করেন, এই ঘটনা গ্রিনস পার্টির জন্য একটি "সংকটময় মুহূর্ত", যা তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই বহিষ্কারের ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার মধ্যেকার জটিল বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
---