বৃহস্পতিবার অ্যালিস স্প্রিংসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনটি পুলিশ কমিশনার মার্টিন ডোল এবং বাহিনীর 'কালচারাল রিফর্ম কমান্ড'-এর নির্বাহী পরিচালক লিয়েন লিডল যৌথভাবে এই পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় ঘোষণা করেন। কমিশনার ডোল তার বক্তব্যে পরিষ্কার (স্পষ্ট) করে বলেন, "এই কৌশলটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার অভিযান নয়, বরং এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুস্পষ্ট পথ।
" তিনি আরও যোগ করেন, "এর লক্ষ্য হলো এমন একটি পুলিশ বাহিনী গঠন করা, যা সত্যিকার অর্থেই এই অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর প্রতিফলন ঘটাবে এবং যেখানে প্রত্যেক কর্মকর্তা ও নাগরিক সম্মান ও ন্যায্যতার সঙ্গে আচরণ পাবেন।" এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন এনটি পুলিশ বাহিনী বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগে বছরের পর বছর ধরে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়ে আসছিল।
বিশেষ করে ২০১৯ সালে কুমঞ্জয়ী ওয়াকার নামে এক আদিবাসী তরুণকে পুলিশের গুলিতে হত্যার ঘটনা এবং তৎপরবর্তী করোনিয়াল তদন্ত এই সংস্কারকে ত্বরান্বিত করেছে। ওই তদন্তে, করোনার এলিজাবেথ আর্মিটেজ তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বাহিনীতে "গভীরভাবে প্রোথিত প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বর্ণবাদ" এবং "বর্ণবাদী ভাষার স্বাভাবিকীকরণের" সুস্পষ্ট প্রমাণ পান। এই কৌশলের প্রধান রূপকার লিয়েন লিডল, যিনি নিজে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং অ্যালিস স্প্রিংসে বেড়ে ওঠা আরেএনতে (Arrernte) সম্প্রদায়ের একজন নারী। তিনি একটি বিশেষ দলের সহায়তায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাহিনীর অভ্যন্তরে বর্ণবাদের শেকড় নিয়ে তদন্ত করেছেন।
শ্রীমতী লিডল তার বক্তব্যে বলেন, "প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ একটি অস্বস্তিকর সত্য, তবে এটি বাহিনীর প্রত্যেক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মনোভাবের প্রতিফলন নয়। বরং, এটি স্বীকার করে নেওয়ার বিষয় যে, বর্ণবাদ সেই পুরোনো কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুলিশি কার্যক্রমকে রূপ দিয়েছে।" তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমরা জানি, যা আমরা মোকাবিলা করি না, তা আমরা সমাধান করতে পারি না। আজ আমরা সেই পথনকশাই উন্মোচন করছি, যা নিশ্চিত করবে যে আমরা একটি পেশাদার, ন্যায্য এবং আরও জবাবদিহিমূলক পুলিশ বাহিনী হিসেবে সকলের সেবা ও সুরক্ষা প্রদান করতে পারি।"
গত বছর (২০২৪) গারমা ফেস্টিভ্যালে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মাইকেল মারফি "এনটি পুলিশের সদস্যদের দ্বারা সৃষ্ট অতীতের ক্ষতি ও অবিচারের জন্য" আদিবাসী টেরিটোরিয়ানদের কাছে ঐতিহাসিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং এই কৌশল প্রণয়নের ঘোষণা দেন। এই কর্মপরিকল্পনার প্রথম পর্যায়টি ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে এবং এতে চারটি মূল অগ্রাধিকার ঠিক করা হয়েছে: "সেবা ও সুরক্ষা প্রদান", "বর্ণবাদ নির্মূল", "অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব ও প্রতিফলন" এবং "জবাবদিহি থাকা"।
পরিকল্পনার অধীনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে-বাহিনীর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক বর্ণবাদ বিরোধী প্রশিক্ষণ প্রদান, বর্ণবাদী কর্মীদের শনাক্ত করার জন্য উন্নত পদ্ধতি চালু করা, এবং যারা বর্ণবাদের শিকার হন বা এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন (হুইসেলব্লোয়ার) তাদের জন্য সুরক্ষা প্রক্রিয়া উন্নত করা। তবে এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি হলো, পুলিশ বাহিনীর সকল স্তরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ৩০ শতাংশে উন্নীত করা, যা নর্দার্ন টেরিটরিসর মোট আদিবাসী জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির আইন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক অধ্যাপক থালিয়া অ্যান্থনি এই পদক্ষেপকে "অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং নজিরবিহীন" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "এটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এবং করোনারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেরই প্রতিফলন। এটি একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা। এই পর্যালোচনার ভিত্তিই হলো প্রকৃত পরিবর্তন আনা।"