আন্তর্জাতিক এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "গাজায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নতুন গভীরতায় পৌঁছেছে।" ত্রাণ চাইতে গিয়ে ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যুর ঘটনাকে "ভয়াবহ" আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে ইসরায়েলের ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাকে "বিপজ্জনক" এবং "গাজাবাসীকে মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার সামিল" বলে নিন্দা করা হয়। একই সঙ্গে, হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক মঙ্গলবার (২২ জুলাই, ২০২৫) সকালে এবিসি নিউজকে বলেন, "আমরা দেখেছি শিশুদের হত্যা করার, ভয়াবহ গণহত্যার এবং গির্জায় বোমা ফেলার অসংখ্য চিত্র। যা ঘটছে তার অনেকটাই অসমর্থনযোগ্য।" তিনি আরও বলেন, সরকার এই যুদ্ধের অবসান দেখতে চায়।
তবে, সরকারের এই কঠোর অবস্থান দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লে হামাসের হাতে জিম্মিদের আটকে রাখা এবং ত্রাণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ছায়া শিক্ষামন্ত্রী জোনো ডুনিয়াম সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি "উদ্বেগজনক পদক্ষেপ" এবং "দুঃখজনক ঘটনা" বলে অভিহিত করেছেন, যদিও বিবৃতিতে হামাসেরও নিন্দা করা হয়েছে। ইসরায়েল এই যৌথ বিবৃতিকে 'বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলের দাবি, যুদ্ধের ধারাবাহিকতার জন্য একমাত্র হামাসই দায়ী। অস্ট্রেলিয়ার সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনে ক্যানবেরায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে সমাবেশ করছে। ফলে, অস্ট্রেলিয়ার সরকার একদিকে আন্তর্জাতিক মিত্রদের চাপ এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক বিরোধিতার এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি হয়েছে।
---