সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্যানবেরায় পারিবারিক সহিংসতার অভিযানে পুলিশের ওপর গুলি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:২৬ পিএম

ক্যানবেরায় পারিবারিক সহিংসতার অভিযানে পুলিশের ওপর গুলি
ছবি: ABC News

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। শনিবার রাতে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করতে গেলে তিনি পুলিশের ওপর গুলি চালান। দীর্ঘক্ষণ অচলাবস্থার পর ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

এসিটি পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানবেরার দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসাবেলা প্লেইনস এলাকার গ্যালোওয়ে স্ট্রিটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে পুলিশ ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজের সঙ্গীর ওপর গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

পুলিশ ওই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলেই তিনি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বাড়ির একটি শেড বা বিচ্ছিন্ন কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) বিশেষ ট্যাকটিক্যাল রেসপন্স টিম এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়। পুলিশের অ্যাক্টিং কমান্ডার জোসেফ থর্ন জানান, পুলিশের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

 

আলোচনার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে বিস্ফোরক থাকার ইঙ্গিত দিলে সতর্কতা হিসেবে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়। মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর, রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ শেডের ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে তাঁকে মৃত অবস্থায় পায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিজের আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

 

স্বস্তির বিষয় হলো, এই গোলাগুলি ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি। কমান্ডার থর্ন ঘটনাটিকে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য অত্যন্ত ট্রমাটিক বা মানসিক আঘাতজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সদস্যরা জননিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত নিজেদের বিপদের মুখে ঠেলে দেন। তবে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

 

রবিবার পর্যন্ত গ্যালোওয়ে স্ট্রিটের একাংশ তদন্তের স্বার্থে সাধারণ চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং পুলিশ প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রাখে। পুরো ঘটনাটি এখন করোনার বা অপমৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং এএফপির পেশাগত মানদণ্ড বিষয়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য জানা থাকলে তা জানানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

 

- ABC News