জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই ব্যক্তি বর্তমানে রয়্যাল ব্রিসবেন অ্যান্ড উইমেনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ডের গ্ল্যাডস্টোন অঞ্চলের র্যাগলান নামক এলাকায়। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ১০টার দিকে ল্যাংমর্ন রোডের পার্শ্ববর্তী একটি ব্যক্তিগত রানওয়েতে বা এয়ারস্ট্রিপে অবতরণের চেষ্টা করছিলেন ওই পাইলট।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তাতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। বিমানটিতে ওই ব্যক্তি একাই ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ‘ভিএইচ’ (VH) নিবন্ধিত এই হালকা বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগুনের লেলিহান শিখা পুরো আকাশযানটিকে গ্রাস করে ফেলে।
কুইন্সল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও পাইলটের শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগুনে তাঁর হাত, পা, মুখমণ্ডল এবং বুকের বিশাল অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পর একজন মানুষের পক্ষে জ্ঞান রাখা কিংবা নড়াচড়া করা প্রায় অসম্ভব।
অথচ, এই পাইলট সেই অবস্থাতেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি খামারবাড়িতে (হোমস্টেড) হেঁটে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা বিভাগের প্যারামেডিকরা তাঁর এই মনোবল দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, এত গুরুতর জখম নিয়ে এত দীর্ঘ পথ হাঁটা মানুষের টিকে থাকার আদিম ও তীব্র আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ।
খামারবাড়ি থেকে জরুরি সংকেত পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল ও হেলিকপ্টার। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে প্রথমে এয়ারলিফ্ট করে বান্ডাবার্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত রয়্যাল ব্রিসবেন অ্যান্ড উইমেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাঁর জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো (ATSB) জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা, নাকি পাইলটের কোনো ভুলের কারণে অবতরণের সময় এই বিপর্যয় ঘটেছে, তা তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। স্থানীয় পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি সংগ্রহ করছে। অস্ট্রেলিয়ার গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে।