রাজনীতির মাঠে সাধারণত বছরের শেষ সময়টিকে বলা হয় ‘কিলিং সিজন’ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়, যেখানে নেতৃত্বের রদবদল বা দলীয় কোন্দলই মুখ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু ৬২ বছর বয়সী আলবানিজ সেই উত্তপ্ত সময়টিকে ভালোবাসার জয়ে পরিণত করলেন। বিয়ের এই অনুষ্ঠানের ঠিক আগের দুই মাস ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য এক চরম ব্যস্ততম সময়। আন্তর্জাতিক কূটনীতি থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি-সব ক্ষেত্রেই তাঁকে এক প্রকার যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশুদের বাঁচাতে ‘টেক ব্রো’দের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়; তিনি যুক্তরাজ্য সফর করেছেন, আবুধাবিতে নতুন কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের জটিল সমীকরণ সামলে দেশের জন্য খনিজ চুক্তি নিশ্চিত করে ফিরেছেন।
উলুরু থেকে কুয়ালালামপুর, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার জি-২০ সম্মেলন-অবিরাম ছুটে চলা এই মানুষটি শেষমেশ পরিবেশ সুরক্ষা বিল পাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিজয়ের হাসি হেসেছেন। আর এই সবকিছুর সমাপ্তি টানলেন নিজের বিয়ের মাধ্যমে, যা তাঁর অবিশ্বাস্য কর্মক্ষমতা ও ‘মাল্টিটাস্কিং’-এরই প্রমাণ। আলবানিজের ব্যক্তিগত জীবনও কম নাটকীয় ছিল না।
মাত্র ছয় বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর, অনেকেই হয়তো ভাবেননি যে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। ২০১৯ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর দলের হাল ধরা এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠা-সবকিছুই তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তির পরিচয় দেয়। জোডি হেডনের সঙ্গে তাঁর এই পরিণয় কেবল ব্যক্তিগত সুখের বার্তা নয়, বরং এটি তাঁর জীবনের ‘হ্যাঁ, আমি পারি’ মানসিকতারই প্রতিফলন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলবানিজ যখন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের স্বর্ণালি সময় পার করছেন, তখন দেশটির বিরোধী দল বা কোয়ালিশন নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত। বিরোধীদের এই ছন্নছাড়া অবস্থা আলবানিজকে বাড়তি সুবিধা করে দিয়েছে। তবে বিয়ের উৎসব শেষ হলেই সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সব চ্যালেঞ্জ।
আগামী বছর বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, আবাসন সংকট এবং নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প নিয়ে আঞ্চলিক অসন্তোষের মতো বিষয়গুলো তাঁকে মোকাবিলা করতে হবে। তবুও, সব রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরে শনিবারের দিনটি ছিল শুধুই ভালোবাসার।
গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজন অনস্বীকার্য, কিন্তু আপাতত সব তর্ক-বিতর্ক মুলতবি রেখে দেশবাসী তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন পথচলাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। ২০২৫ সালের এই ‘কিলিং সিজনে’ শেষ পর্যন্ত ভালোবাসাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হলো।