উল্লেখ্য, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ভুক্তভোগী ওই নারী অন্য শারীরিক জটিলতার কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন, তবে তার দেওয়া জবানবন্দি আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি ভোরে। অভিযোগ রয়েছে, হেইডেন কার্ল স্কিনার জোরপূর্বক বৃদ্ধাশ্রমে প্রবেশ করেন এবং ওই নারীর ওপর চড়াও হন। সরকারি কৌঁসুলি ব্রেন্ডন ক্যাম্পবেল আদালতের সামনে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারী শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও সজাগ ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর পোশাক ছিঁড়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন, কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি সফল হননি। কৌঁসুলি আরও জানান, তদন্তে ভুক্তভোগীর নখের নিচে এবং বিছানার পাশে পড়ে থাকা পোশাকে অভিযুক্তের ডিএনএ বা জিনের নমুনা পাওয়া গেছে, যা এই মামলার অন্যতম প্রধান প্রমাণ।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্কিনারের আইনজীবী পিটার পিয়ারসল আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, তার মক্কেল মূলত মাদক সংক্রান্ত ঋণ পরিশোধের জন্য চুরির উদ্দেশ্যে ওই বৃদ্ধাশ্রমে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, স্কিনারের যৌন নির্যাতনের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আইনজীবীর ভাষ্যমতে, ভুক্তভোগী নারী জেগে ওঠার পর দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রকার যৌন নিগ্রহের ঘটনা ঘটেনি।
বিবাদী পক্ষ পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া বর্ণনার মধ্যে অমিল থাকার বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরেছে। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ভুক্তভোগীর ছেলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, তার মা ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে আক্রমণকারী তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।
ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা নার্স কেনেথ ব্রায়োনস জানান, তিনি অ্যালার্ম শুনে ছুটে গিয়ে দেখেন ভুক্তভোগী নারী সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন এবং তিনি তাকে জানিয়েছিলেন যে একজন লোক তার ঘরে ঢুকে তাকে নির্যাতন করেছে। এছাড়া প্যারামেডিক অ্যাবি রে আদালতে জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভুক্তভোগী তার বুকে ও শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন।
বিচারক মাইকেল ম্যাকহিউয়ের অধীনে জুরি ছাড়া এই বিচার প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি আগামী আট দিন পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত ভুক্তভোগীর মৃত্যুর কারণে তার পুলিশি জবানবন্দির কিছু অংশ সম্পাদনা করে গ্রহণ করেছে, যেহেতু তাকে জেরার সুযোগ আর নেই।