পুলিশি অভিযানে তার বিলাসবহুল জীবনযাপন ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ পরিচালিত ‘টাস্কফোর্স ফ্যালকন’-এর বিশেষ অভিযানে আলী জুন্দিসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ‘আফগান ক্রু’ মূলত একটি সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্ক, যারা অর্থের বিনিময়ে জনসমক্ষে সহিংসতা ঘটিয়ে থাকে।
সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে একসময় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী আলামেদিন পরিবারের শীর্ষ নেতারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবাননে পালিয়ে গেলেও, বর্তমানে তাদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার লড়াই শহরের রাস্তায় নতুন করে সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। পুলিশ গোপনে ‘স্ট্রাইক ফোর্স কার্সলে’-এর মাধ্যমে এই ভাঙন ও নতুন অপরাধী চক্রগুলোর ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছিল।
গ্রেফতারের সময় আলী জুন্দির জর্জেস হলের বাসভবন থেকে পুলিশ ও এনএসডব্লিউ ক্রাইম কমিশন বেশ কয়েকটি অতি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করে। এর মধ্যে ৬ লাখ ডলার মূল্যের একটি রোলস-রয়েস, সমমূল্যের একটি ল্যাম্বরগিনি এবং ৩ লাখ ডলারের একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি রয়েছে। এছাড়াও, ক্রাইম কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ডলারের (১২.৪ মিলিয়ন) অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে, যা অপরাধলব্ধ অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুন্দি বিপুল পরিমাণ মাদক সরবরাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে অসাধু উপায়ে সুবিধা লাভের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অপরাধলব্ধ অর্থের লেনদেন ও ডিজিটাল অ্যাক্সেস অর্ডারে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। বুধবার ব্যাংকসটাউন লোকাল কোর্টে শুনানিকালে পুলিশ অভিযোগ করে যে, জুন্দি তার কোম্পানির আয়ের তথ্য গোপন করে এবং বাড়িয়ে দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন।
তবে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি তাঁর আয়ের বিষয়ে কোনো মিথ্যা তথ্য দেননি এবং তিনি কোনো অপরাধী চক্রের সদস্য নন। পুলিশ তাকে প্রভাবশালী ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করার ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করলেও, আদালত তাকে ৫ লাখ ডলারের মুচলেকায় জামিন প্রদান করেন। তবে জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে এনক্রিপ্ট করা অ্যাপ ব্যবহারে বিধিনিষেধ এবং ‘আফগান ক্রু’র সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই অভিযানের অংশ হিসেবে ২২ বছর বয়সী আহমেদ ঘামওয়ারিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বাণিজ্যিক পরিমাণে মাদক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তার ফোনের একটি ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে তাকে অস্ত্রসহ দেখা গেছে। বিচারক তার জীবনযাপনকে ‘দ্বৈত জীবন’ বা ছদ্মবেশী হিসেবে অভিহিত করেন, যা তার পরিবারও জানত না। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।