পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সোমবার পোর্ট অ্যাডিলেড ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান এই ব্যক্তি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পালানোর সময় অভিযুক্তের পরনে ছিল হাসপাতালের বিশেষ মেডিক্যাল গাউন এবং হাতে ছিল হাতকড়া।
চিকিৎসার পর তাঁকে যখন হাসপাতাল থেকে বের করে পুলিশ ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের বিভ্রান্ত করে দৌড়ে পালিয়ে যান। হাতকড়া পরা অবস্থায় একজন আসামির এভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এই ব্যক্তিকে মূলত বৃহস্পতিবার সকালেই আটক করা হয়েছিল।
ট্যাপলিস হিল রোডে হেলমেট ছাড়া সাইকেল চালানোর সময় পুলিশ তাঁকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু তিনি নির্দেশ অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন এবং একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। সেখানে তিনি একটি হাতুড়ি উঁচিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে তেড়ে আসেন এবং তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পেপার স্প্রে বা লঙ্কার গুঁড়া ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে শারীরিক অবস্থার মূল্যায়নের জন্য কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে জরুরি সেবা প্রদানকারী কর্মীদের ওপর হামলা, আক্রমণাত্মক ও নিষিদ্ধ অস্ত্র বহন এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতাল থেকে পালানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে ‘আইনগত হেফাজত থেকে পলায়ন’-এর নতুন অভিযোগ যুক্ত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে ব্যাপক অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। সোমবার আদালতে তোলার পর তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। একজন সহিংস আচরণকারী ব্যক্তি এভাবে লোকালয়ে মিশে যাওয়ায় জনমনে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল, তাঁর গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তা প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।